২/৮. অধ্যায়ঃ
সাহ্উ সিজদা ও অন্যান্য সিজদা প্রসঙ্গ - সূরা সোয়াদ-এ তিলাওয়াতে সাজদার বিধান
সূরা সাদের সিজদাহ: বাধ্যতামূলক নয়, তবে নবীর আমলে আছে
বুলুগুল মারাম : ৩৪০
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৩৪০
وَعَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا - قَالَ: (ص) لَيْسَتْ مِنْ عَزَائِمِ السُّجُودِ, وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَسْجُدُ فِيهَا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সূরাহ্ স-দ এর সিজদাহ্ অত্যাবশ্যক সিজদাহ্ সমূহের মধ্যে গণ্য নয়। তবে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে আমি তা তিলাওয়াতের পর সিজদাহ্ করতে দেখেছি। (বুখারী) [৩৮১]
[৩৮১] বুখারী ১০৬৯, তিরমিযী ৫৭৭, নাসায়ী ৯৫৭, আবূ দাঊদ ১৪০৯, আহমাদ ২৫১৭, ৩৩৭৭, ৩৪২৬, দারেমী ১৪৬৭। বুখারীতে আরও রয়েছে যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সূরাহ্ ওয়ান্-নাজ্ম তিলাওয়াতের পর সাজদাহ্ করেন এবং তাঁর সাথে সমস্ত মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও ইনসান সবাই সাজদাহ্ করেছিল।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৩৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূরা সাদের সিজদাহ সম্পর্কে বলেন, এটি অত্যাবশ্যক সিজদাহগুলোর মধ্যে গণ্য নয়। তবে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এই সূরা তিলাওয়াতের পর সিজদাহ করতে দেখেছেন। হাদিসটির শিক্ষা খুব সূক্ষ্ম। একদিকে বলা হয়েছে, সূরা সাদের সিজদাহ বাধ্যতামূলক সিজদাহের মধ্যে নয়। অন্যদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলে তা দেখা গেছে। তাই এই বর্ণনা তিলাওয়াতের সিজদাহ বিষয়ে ভারসাম্য শেখায়। এখানে বাড়তি দাবি না করে শুধু এতটুকুই বলা উচিত যে, এটি বাধ্যতামূলক শ্রেণির নয়, তবে নবীজির করা আমল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূরা সাদের সিজদাহ অত্যাবশ্যক সিজদাহের মধ্যে নয় বলে বর্ণিত হয়েছে।
- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সূরা সাদে সিজদাহ করতে দেখা গেছে।
- তিলাওয়াতের সিজদাহ বুঝতে হাদিসের শব্দ সতর্কভাবে মানা দরকার।
- কোনো আমল সম্পর্কে বাধ্যতামূলক ও প্রাসঙ্গিক আমলের পার্থক্য বোঝা জরুরি।
