২/৭. অধ্যায়ঃ
সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি - বিসমিল্লাহ সূরা ফাতেহার আয়াতের অন্তর্ভুক্ত
সূরা ফাতিহা পড়ার সময় বিসমিল্লাহ পাঠের গুরুত্ব
বুলুগুল মারাম : ২৮২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ২৮২
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم: «إِذَا قَرَأْتُمْ الْفَاتِحَةَ فَاقْرَءُوا: (بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) , فَإِنَّهَا إِحْدَى آيَاتِهَا». رَوَاهُ الدَّارَقُطْنِيُّ, وَصَوَّبَ وَقْفَهُ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- তোমরা সূরা ফাতিহা পাঠের সময় ‘বিস্মিল্লাহির রহমানির রহীম’ পাঠ করবে। কেননা ওটা তারই একটা আয়াত। দারাকুৎনী হাদীসটির মওকুফ হওয়াকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। [৩১৯]
[৩১৯] দারাকুতনী মারফু’ ও মাওকূফরূপে ২/৩১২, তোমরা যখন সূরা ফাতিহা পড়বে তখন তোমরা বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম পড়বে। কেননা, সেটি হচ্ছে উম্মুল কুরআন, উম্মুল কিতাব, সাবআ মাসানী। আর বিসমিল্লাহ তারই একটি। তিনি ইলাম গ্রন্থে মাওকূফ সূত্রে (৮/১৪৯) বলেনঃ এটি হকের অধিক সম্ভাবনা রাখে। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর (১/৩৮১) গ্রন্থে বলেন, এ সনদের রাবীগণ বিশ্বস্ত। অনেক ইমাম এ হাদীসটিকে মারফূ’ হওয়ার চেয়ে মাওকূফ হওয়াটাকেই সহীহ বলেছেন। এর শাহেদ রয়েছে যা এটিকে শক্তিশালী করে। ইবনু উসাইমিন শারহু বুলুগুল মারামে (২/৭৬) উল্লেখ করেন এটা মাওকুফ আবূ হুরায়রা পর্যন্ত। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সহীহভাবে প্রমানিত হয়নি। আলবানী সহীহুল জামে (৭২৯) গ্রন্থে, সহীহ সিলসিল সহীহা (১১৮৩) এর সনদকে মাওকুফ ও মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইতহাফুল মাহরা বিল ফারায়িদ আল মুবাক্কারা মিন আতরাফিল আশারা (১৪/৬৬৪) গ্রন্থে ইবনু হাজার বলেন এই হাদীসে আব্দুল হামীদ বিন জা’ফার সত্যবাদী, তবে তার ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে। সঠিক কথা হলো হাদীসটি মাওকুফ। ইবনুল মুলকিন খুলাসা আল বাদরুল মুনীর (১/১১৯) ও আল বাদরুল মুনীর (৩/৫৫৮) গ্রন্থে এর সনদে সহীহ বলেছেন। ইমাম যাহাবী তাঁর তাকীহুত তাহকীক (১/১৪৪) গ্রন্থে বলেন, যদি সহীহ হয় তাহলে তা মাওকূফ হিসেবেই সহীহ।
বুলুগুল মারাম হাদিস ২৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামে বর্ণিত হয়েছে যে, তোমরা সূরা ফাতিহা পাঠের সময় বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম পাঠ করবে। কারণ হাদিসের ভাষায়, এটি ফাতিহার একটি আয়াত। একই সঙ্গে বর্ণনার শেষে দারাকুৎনীর মন্তব্যও আছে যে, তিনি হাদিসটির মওকুফ হওয়াকে সঠিক বলেছেন। তাই ব্যাখ্যায় ভারসাম্য রাখা দরকার। মূল শিক্ষা হলো, সূরা ফাতিহা পড়ার সঙ্গে বিসমিল্লাহ পাঠের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে এসেছে। এটি সালাতের কিরাআত নিয়ে একটি নির্দিষ্ট দিক দেখায়। হাদিসের বাইরে গিয়ে সব মতের বিস্তারিত আলোচনা এখানে করা হচ্ছে না; শুধু দেওয়া পাঠ অনুযায়ী বলা যায়, ফাতিহা শুরু করার সময় বিসমিল্লাহ পাঠের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূরা ফাতিহা পাঠের সময় বিসমিল্লাহ পড়ার কথা এসেছে।
- বিসমিল্লাহকে ফাতিহার সঙ্গে যুক্ত করে উল্লেখ করা হয়েছে।
- বর্ণনার হুকুম নিয়ে দারাকুৎনীর মন্তব্য সতর্কতার সঙ্গে মনে রাখতে হয়।
- সালাতের কিরাআত শেখার ক্ষেত্রে শব্দের শুদ্ধতা গুরুত্বপূর্ণ।
