১৪/১. অধ্যায়ঃ
স্বাক্ষ্য প্ৰদান এবং গ্রহণ - যাদের সাক্ষ্য গ্ৰহণ করা যায় না
যাযাবরের সাক্ষ্য: বিচার-ফায়সালায় সতর্কতার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১৪০২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৪০২
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه: أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا تَجُوزُ شَهَادَةُ بَدَوِيٍّ عَلَى صَاحِبِ قَرْيَةٍ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَابْنُ مَاجَهْ
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছেন, কোন অজ্ঞ যাযাবরের সাক্ষ্য স্থায়ী বাসিন্দার বিপক্ষে গৃহিত হবে না। [১৫১০]
[১৫১০] আবু দাউদ ৩৬০২, ইবনু মাজাহ ২৩৬৭। ইমাম যাহাবি বলেন, হাদিসটি মুনকার; ইবনু দাক্কীক্ক আল-ঈদ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন, তাওযিহুল আহকাম ৭/২০০
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোনো অজ্ঞ যাযাবরের সাক্ষ্য স্থায়ী বাসিন্দার বিপক্ষে গ্রহণ করা হবে না। এখানে মূল বিষয় হলো সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্যতা ও ঘটনার সঠিক জ্ঞান। যে ব্যক্তি কোনো এলাকার জীবন, লোকজন বা ঘটনার ধারাবাহিকতা ভালোভাবে জানে না, তার কথায় বিচার করলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। হাদিসটি সাক্ষ্য গ্রহণের শর্ত বুঝতে সাহায্য করে। বিচার-ফায়সালায় আবেগ, দূর থেকে শোনা কথা বা অজ্ঞতার উপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়। বরং যে সাক্ষী ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত, বুঝদার এবং নির্ভরযোগ্য, তার কথাই বিবেচ্য। এতে মানুষের অধিকার বাঁচে এবং মিথ্যা সাক্ষ্য বা ভুল দাবির পথ কমে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাক্ষীর ঘটনার বিষয়ে পরিষ্কার জ্ঞান থাকা দরকার।
- অজ্ঞতা বিচার-ফায়সালায় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- স্থায়ী বাসিন্দার বিপক্ষে সাক্ষ্যে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।
- মানুষের হক রক্ষায় নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য জরুরি।
