১২/১. অধ্যায়ঃ
শিকার ও যবহকৃত জন্তু - জবেহ করার সময় বিসমিল্লাহ না বললে
মুসলিমের যবাহ হালাল: বিসমিল্লাহ প্রসঙ্গে শাহিদ বর্ণনা
বুলুগুল মারাম : ১৩৪৫
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৩৪৫
وَلَهُ شَاهِدٌ عِنْدَ أَبِي دَاوُدَ فِي «مَرَاسِيلِهِ» بِلَفْظِ: «ذَبِيحَةُ الْمُسْلِمِ حَلَالٌ, ذَكَرَ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا أَوْ لَمْ يَذْكُرْ». وَرِجَالُهُ مُوَثَّقُونَ
ইমাম আবূ দাঊদের মারাসিল হতে বর্ণিতঃ
গ্রন্থে এর একটা শাহিদ (সম অর্থবাহী) হাদীস রয়েছে-তাতে আছে, মুসলিমের যবাহ্কৃত জন্তু হালাল, সে তাতে বিসমিল্লাহ্ বলুক বা না বলুক। এর বর্ণনাকারী রাবীগণ মাজবূত (নির্ভরযোগ্য)। [১৪৫৩]
[১৪৫৩] ইবনুল কাত্তান তাঁর আল ওয়াহম ওয়াল ঈহাম ৩/৫৭৯ গ্রন্থে বলেন, হাদীসটির দোষ হচ্ছে মুরসাল, কারণ স্বলত আস সাদূসীর অবস্থা জানা যায় না। ইবনু উসাইমীন শরহে বুলুগুল মারাম ৬/৬৭ গ্রন্থে এ হাদীসটিকে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন। ইবনু কাসীর তাঁর তাফসীরুল কুরআন ৩/৩১৮ গ্রন্থে ও বাইহাকী সুনান আস সুগরা ৪/৪৩ গ্রন্থে, ইমাম নববী তাঁর মাজমু‘ ৮/৪১২ গ্রন্থে, ইমাম যঈলয়ী নাসবুর রায়া একে মুরসাল বলেছেন। ইমাম সনআনী, নাববী, শওকানী, আল আইনী, ইবনুল মুলকিন সহ অনেকেই এ হাদীসটিকে মুরসাল বলেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী আত্-তালখীসুল হাবীর ৪/১৪৩৮ গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। আলবানী যঈফুল জামেতে ৩০৩৯ এ যঈফ বলেছেন। তবে ইবনু হাজার আসকালানী ফাতহুল বারী ৯/৫৫২ গ্রন্থে একে ‘মুরসাল জাইয়েদ’ ভালো মুরসাল বলেছেন।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই অংশে বলা হয়েছে, গ্রন্থে একটি শাহিদ বা সম অর্থবাহী হাদিস আছে। তাতে এসেছে, মুসলিমের যবাহকৃত জন্তু হালাল, সে তাতে বিসমিল্লাহ বলুক বা না বলুক। বর্ণনার শেষে বলা হয়েছে, এর বর্ণনাকারীরা নির্ভরযোগ্য। এই হাদিসকে বুঝতে হলে আগের বর্ণনার সাথে মিলিয়ে দেখা যায় যে, এখানে যবাহের সময় আল্লাহর নামের প্রসঙ্গ এসেছে। তবে আমরা অতিরিক্ত কোনো ফিকহি সিদ্ধান্ত দিচ্ছি না; শুধু প্রদত্ত বাক্যের শিক্ষা তুলে ধরছি। মুসলিমের যবাহ, বিসমিল্লাহ না বলে জবাই, যবাহ হালাল কি—এসব অনুসন্ধানে এই বর্ণনা কাজে আসে। এতে মুসলিম পরিচয়, আল্লাহর নামের স্মরণ এবং যবাহের বিষয়ে বর্ণিত সহজ বার্তা দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বর্ণনায় মুসলিমের যবাহকৃত জন্তুকে হালাল বলা হয়েছে।
- যবাহের বিষয়ে আল্লাহর নামের প্রসঙ্গ গুরুত্বপূর্ণ।
- হাদিস বুঝতে বর্ণনার ভাষা ও সনদের কথাও খেয়াল করা দরকার।
