১০/১৪৫. অধ্যায়ঃ
তাশাহুদে বসার নিয়ম।
وَكَانَتْ أُمُّ الدَّرْدَاءِ تَجْلِسُ فِي صَلَاتِهَا جِلْسَةَ الرَّجُلِ وَكَانَتْ فَقِيهَةً.উম্মু দারদা (রা.) তাঁর সালাতে পুরুষের মত বসতেন, তিনি ছিলেন দীন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞানী।"
নবীজির সালাতের পদ্ধতি: তাকবির থেকে শেষ বৈঠক পর্যন্ত
সহীহ বুখারী : ৮২৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৮২৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ،. وَحَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، وَيَزِيدَ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَلْحَلَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَطَاءٍ، أَنَّهُ كَانَ جَالِسًا مَعَ نَفَرٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَذَكَرْنَا صَلاَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ أَنَا كُنْتُ أَحْفَظَكُمْ لِصَلاَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَأَيْتُهُ إِذَا كَبَّرَ جَعَلَ يَدَيْهِ حِذَاءَ مَنْكِبَيْهِ، وَإِذَا رَكَعَ أَمْكَنَ يَدَيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ، ثُمَّ هَصَرَ ظَهْرَهُ، فَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ اسْتَوَى حَتَّى يَعُودَ كُلُّ فَقَارٍ مَكَانَهُ، فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلاَ قَابِضِهِمَا، وَاسْتَقْبَلَ بِأَطْرَافِ أَصَابِعِ رِجْلَيْهِ الْقِبْلَةَ، فَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ جَلَسَ عَلَى رِجْلِهِ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الْيُمْنَى، وَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرَى وَنَصَبَ الأُخْرَى وَقَعَدَ عَلَى مَقْعَدَتِهِ. وَسَمِعَ اللَّيْثُ يَزِيدَ بْنَ أَبِي حَبِيبٍ وَيَزِيدُ مِنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَلْحَلَةَ وَابْنُ حَلْحَلَةَ مِنَ ابْنِ عَطَاءٍ. قَالَ أَبُو صَالِحٍ عَنِ اللَّيْثِ كُلُّ فَقَارٍ. وَقَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَيُّوبَ قَالَ حَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ أَبِي حَبِيبٍ أَنَّ مُحَمَّدَ بْنَ عَمْرٍو حَدَّثَهُ كُلُّ فَقَارٍ.
মুহাম্মাদ ইব্নু ‘আমর ইব্নু আত্বা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একদল সাহাবীর সঙ্গে বসা ছিলেন। আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত সম্পর্কে আলোচনা করছিলাম। তখন আবূ হুমাইদ সা‘ঈদী (রাঃ) বলেন, আমিই তোমাদের মধ্যে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সালাত সম্পর্কে অধিক স্মরণ রেখেছি। আমি তাঁকে দেখেছি (সালাত শুরু করার সময়) তিনি তাকবির বলে দু’হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। আর যখন রুকূ‘ করতেন তখন দু’হাত দিয়ে হাঁটু শক্ত করে ধরতেন এবং পিঠ সমান করে রাখতেন। অতঃপর রুকূ হতে মাথা উঠিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন যাতে মেরুদণ্ডের হাড়গুলো স্ব-স্ব স্থানে ফিরে আসতো। অতঃপর যখন সিজদা করতেন তখন দু’হাত সম্পূর্ণভাবে মাটির উপর বিছিয়ে দিতেন না, আবার গুটিয়েও রাখতেন না এবং তাঁর উভয় পায়ের আঙ্গুলির মাথা কেবলামুখী করে দিতেন। যখন দু’রাকআতের পর বসতেন তখন বাম পা-এর উপর বসতেন আর ডান পা খাড়া করে দিতেন এবং যখন শেষ রাক‘আতে বসতেন তখন বাঁ পা এগিয়ে দিয়ে ডান পা খাড়া করে নিতম্বের উপর বসতেন।লায়স (রহ.) ...... ইব্নু ‘আত্বা (রহ.) হতে হাদীসটি শুনেছেন। আবূ সালিহ (রহ.) লায়স (রহ.) হতে 'كُلُّ فَقاَرٍ مَكاَنَهُ' বলেছেন। আর ইব্ন মুবারক (রহ.).......মুহাম্মদ ইব্নে ‘আম্র (রহ.) থেকে শুধু 'كُلُّ فَقاَرٍ' বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৮২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু হুমাইদ সাঈদী (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সালাত শুরুতে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকবির বলে দুই হাত কাঁধ বরাবর তুলতেন। রুকুতে দুই হাত হাঁটুতে রাখতেন এবং পিঠ সমান করতেন। রুকু থেকে উঠে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, যাতে শরীরের হাড়গুলো নিজ নিজ স্থানে ফিরে আসে। সিজদায় হাত না পুরো বিছাতেন, না গুটিয়ে রাখতেন। পায়ের আঙুল কিবলামুখী করতেন। দুই রাকাতের পর বাঁ পায়ের উপর বসতেন এবং ডান পা খাড়া রাখতেন। শেষ বৈঠকে বাঁ পা এগিয়ে দিয়ে নিতম্বের উপর বসতেন। এটি নবীজির সালাতের পদ্ধতি শেখার জন্য খুব সমৃদ্ধ বর্ণনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের প্রতিটি ভঙ্গি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পদ্ধতি অনুযায়ী শেখা দরকার।
- রুকুতে পিঠ সমান রাখা এবং হাঁটু শক্ত করে ধরা বর্ণিত হয়েছে।
- সিজদায় হাতের ভঙ্গি ও পায়ের আঙুল কিবলামুখী করার শিক্ষা এসেছে।
- দুই রাকাতের বৈঠক ও শেষ বৈঠকের বসার পদ্ধতি আলাদা করে বর্ণিত হয়েছে।
