৮/৬. অধ্যায়ঃ
এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ সম্পদের ওসিয়ত করা
ওসিয়ত কতটুকু করা যায়? এক-তৃতীয়াংশের সীমা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯৭৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯৭৫
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ عَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَرِيضٌ فَقَالَ " أَوْصَيْتَ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " بِكَمْ " . قُلْتُ بِمَالِي كُلِّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . قَالَ " فَمَا تَرَكْتَ لِوَلَدِكَ " . قُلْتُ هُمْ أَغْنِيَاءُ بِخَيْرٍ . قَالَ " أَوْصِ بِالْعُشْرِ " . فَمَا زِلْتُ أُنَاقِصُهُ حَتَّى قَالَ " أَوْصِ بِالثُّلُثِ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَنَحْنُ نَسْتَحِبُّ أَنْ يَنْقُصَ مِنَ الثُّلُثِ لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَعْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ " وَالثُّلُثُ كَبِيرٌ " . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَرَوْنَ أَنْ يُوصِيَ الرَّجُلُ بِأَكْثَرَ مِنَ الثُّلُثِ وَيَسْتَحِبُّونَ أَنْ يَنْقُصَ مِنَ الثُّلُثِ . قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ كَانُوا يَسْتَحِبُّونَ فِي الْوَصِيَّةِ الْخُمُسَ دُونَ الرُّبُعِ وَالرُّبُعَ دُونَ الثُّلُثِ وَمَنْ أَوْصَى بِالثُّلُثِ فَلَمْ يَتْرُكْ شَيْئًا وَلاَ يَجُوزُ لَهُ إِلاَّ الثُّلُثُ .حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ، عَنْ سَعْدِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ عَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَنَا مَرِيضٌ فَقَالَ " أَوْصَيْتَ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " بِكَمْ " . قُلْتُ بِمَالِي كُلِّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ . قَالَ " فَمَا تَرَكْتَ لِوَلَدِكَ " . قُلْتُ هُمْ أَغْنِيَاءُ بِخَيْرٍ . قَالَ " أَوْصِ بِالْعُشْرِ " . فَمَا زِلْتُ أُنَاقِصُهُ حَتَّى قَالَ " أَوْصِ بِالثُّلُثِ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ " . قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ وَنَحْنُ نَسْتَحِبُّ أَنْ يَنْقُصَ مِنَ الثُّلُثِ لِقَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَعْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ " وَالثُّلُثُ كَبِيرٌ " . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَرَوْنَ أَنْ يُوصِيَ الرَّجُلُ بِأَكْثَرَ مِنَ الثُّلُثِ وَيَسْتَحِبُّونَ أَنْ يَنْقُصَ مِنَ الثُّلُثِ . قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ كَانُوا يَسْتَحِبُّونَ فِي الْوَصِيَّةِ الْخُمُسَ دُونَ الرُّبُعِ وَالرُّبُعَ دُونَ الثُّلُثِ وَمَنْ أَوْصَى بِالثُّلُثِ فَلَمْ يَتْرُكْ شَيْئًا وَلاَ يَجُوزُ لَهُ إِلاَّ الثُّلُثُ .
সা'দ ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখতে এলেন। তিনি বললেন: তুমি কি ওসিয়ত করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন: কতটুকু? আমি বললাম, আল্লাহর রাস্তায় আমার সবটুকু সম্পদ দিয়ে দিয়েছি। তিনি বললেন: তোমার সন্তানদের জন্য কী রাখলে? আমি বললাম, তারা বেশ ধনী। তিনি বললেন: দশ ভাগের এক অংশ ওসিয়ত কর। সা’দ (রাঃ) বলেন, আমি বরাবর “তা খুবই কম” বলতে লাগলাম। তিনি শেষে বললেন: ওসিয়ত কর তিন ভাগের এক অংশ। আর তিন ভাগের এক অংশও বেশি হয়ে যাচ্ছে।
সহীহ, ইরওয়া (৮৯৯), সহীহ আবূ দাউদ (২৫৫০), বুখারী, মুসলিম দশভাগের একভাগ ওয়াসিয়াত কর এই অংশ বাদে। এ অংশটুকু যঈফ।আবূ আবদুর রাহমান বলেন, আমরা এক-তৃতীয়াংশের কম ওয়াসিয়াত করাকে মুস্তাহাব মনে করি। কেননা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ এক-তৃতীয়াংশও অনেক বেশি।ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এটি একাধিকসূত্রে বর্ণিত আছে। কোন কোন বর্ণনায় কাবীর" শব্দ এবং কোন কোন বর্ণনায় ‘কাসীর" শব্দের উল্লেখ রয়েছে।এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। তারা এক তৃতীয়াংশের বেশি পরিমাণ ওয়াসিয়াত করাকে জায়িয মনে করেন না, বরং এক তৃতীয়াংশেরও কম সম্পদ ওয়াসিয়াত করাকে মুস্তাহাব মনে করেন। সুফিয়ান সাওরী বলেনঃ এক-চতুর্থাংশের চেয়ে এক-পঞ্চমাংশ এবং এক-তৃতীয়াংশের চেয়ে এক-চতুর্থাংশ ওয়াসিয়াত করাকে পূর্ববর্তী আলিমগণ মুস্তাহাব মনে করতেন। এক-তৃতীয়াংশ পরিমাণ সম্পত্তি যে লোক ওয়াসিয়াত করল সে লোক তো আর কিছু রাখল না। তার জন্য এক-তৃতীয়াংশের বেশি ওয়াসিয়াত করা জায়িয নয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় ওসিয়তের পরিমাণ। সা’দ রাঃ অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে দেখতে যান এবং জানতে চান তিনি ওসিয়ত করেছেন কি না। সা’দ রাঃ জানান, তিনি আল্লাহর পথে নিজের সব সম্পদ ওসিয়ত করেছেন। তখন রাসূল صلى الله عليه وسلم তার সন্তানদের জন্য কী রেখেছেন তা জানতে চান। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়তের অনুমতি দেন এবং বলেন, এক-তৃতীয়াংশও বেশি। বর্ণনাটি দেখায়, ওসিয়তের সময় শুধু দান করার আগ্রহ নয়, সন্তানদের অবস্থাও বিবেচনা করা হয়েছে। সব সম্পদ দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি। ওসিয়ত কতটুকু করা যায়—এই প্রশ্নে হাদিসটি এক-তৃতীয়াংশের সীমা স্পষ্ট করে এবং কম রাখার দিকেও ইঙ্গিত করে। ব্যাখ্যায় হাদিসের নির্দিষ্ট কথোপকথন ও সীমার বাইরে অতিরিক্ত দাবি না করাই ঠিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সব সম্পদ ওসিয়ত করে দেওয়ার প্রস্তাব রাসূল صلى الله عليه وسلم গ্রহণ করেননি।
- সন্তানদের জন্য কী রাখা হচ্ছে, তা বিবেচনা করা দরকার।
- ওসিয়তের সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে এক-তৃতীয়াংশ উল্লেখ করা হয়েছে।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم এক-তৃতীয়াংশকেও বেশি বলেছেন।
