৮/২. অধ্যায়ঃ

রুগ্ন ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া

রোগী দেখলে সত্তর হাজার ফেরেশতার দোয়া ও জান্নাতের বাগান

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯৬৯

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ ثُوَيْرٍ، هُوَ ابْنُ أَبِي فَاخِتَةَ عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَخَذَ عَلِيٌّ بِيَدِي قَالَ انْطَلِقْ بِنَا إِلَى الْحَسَنِ نَعُودُهُ ‏.‏ فَوَجَدْنَا عِنْدَهُ أَبَا مُوسَى فَقَالَ عَلِيٌّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ أَعَائِدًا جِئْتَ يَا أَبَا مُوسَى أَمْ زَائِرًا فَقَالَ لاَ بَلْ عَائِدًا ‏.‏ فَقَالَ عَلِيٌّ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَعُودُ مُسْلِمًا غُدْوَةً إِلاَّ صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنْ عَادَهُ عَشِيَّةً إِلاَّ صَلَّى عَلَيْهِ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ حَتَّى يُصْبِحَ وَكَانَ لَهُ خَرِيفٌ فِي الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عَلِيٍّ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ مِنْهُمْ مَنْ وَقَفَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ ‏.‏ وَأَبُو فَاخِتَةَ اسْمُهُ سَعِيدُ بْنُ عِلاَقَةَ ‏.‏

সুওয়াইর (রহঃ) হতে তাঁর পিতা হতে বর্ণিতঃ

আমার হাত ধরলেন আলী (রাঃ) বললেন, আমার সাথে চল, অসুস্থ হাসানকে দেখে আসি। আমরা তার নিকট গিয়ে আবু মূসা (রাঃ)-কে হাজির পেলাম। আলী (রাঃ) বললেন, হে আবু মূসা! আপনি কি রোগী দেখতে এসেছেন না এমনি বেড়াতে এসেছেন? তিনি বললেন, না, রোগী দেখতে এসেছি। আলী (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছিঃ কোন মুসলিম যদি অন্য কোন মুসলিম রোগীকে সকাল বেলা দেখতে যায় তাহলে সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে। সে যদি সন্ধ্যায় তাকে দেখতে যায় তবে সত্তর হাজার ফেরেশতা ভোর পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে এবং জান্নাতে তার জন্য একটি ফলের বাগান তৈরি হয়।

-সহীহ, তবে হাদীসে বর্ণিত যায়িরাণ শব্দের পরিবর্তে শামিতান শব্দ আছে।-সহীহাহ (১৩৬৭), আর-রা ওয (১১৫৫)।এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। এটি একাধিকসূত্রে আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে। এটিকে মারফু না করে কেউ কেউ মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারী আবূ ফাখিতার নাম সাঈদ, পিতার নাম ইলাকা।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৬৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় রোগী দর্শনের বিশেষ প্রতিদান। আলী রাঃ জানিয়েছেন, কোনো মুসলিম সকালে অন্য মুসলিম রোগীকে দেখতে গেলে সত্তর হাজার ফেরেশতা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করেন। আর সন্ধ্যায় দেখতে গেলে তারা ভোর পর্যন্ত দোয়া করেন। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, জান্নাতে তার জন্য একটি ফলের বাগান থাকে। হাদিসের শুরুতে আলী রাঃ আবু মূসা রাঃ-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি রোগী দেখতে এসেছেন নাকি সাধারণ সাক্ষাতে। এতে রোগী দর্শনের আলাদা উদ্দেশ্য ও মর্যাদা বোঝা যায়। এখানে সকাল ও সন্ধ্যা—দুই সময়ের কথাই নির্দিষ্টভাবে এসেছে। রোগী দেখার ফজিলত নিয়ে এই হাদিস মুসলিমকে অসুস্থ ভাইয়ের খোঁজ নিতে উৎসাহ দেয়। তবে রোগীর আরাম ও অবস্থার প্রতিও খেয়াল রাখা উচিত, যদিও সেই বিস্তারিত এই বর্ণনায় নেই।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সকালে রোগী দেখতে গেলে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফেরেশতারা দোয়া করেন।
  • সন্ধ্যায় রোগী দেখতে গেলে ভোর পর্যন্ত ফেরেশতারা দোয়া করেন।
  • রোগী দর্শন ও সাধারণ সাক্ষাতের উদ্দেশ্য এক নয়।
  • রোগী দেখতে যাওয়া জান্নাতের ফলের বাগান লাভের কারণ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন