৭/৫৭. অধ্যায়ঃ
মুযদালিফায় যে লোক ইমামকে পেল সে লোক হজ্জ পেয়ে গেল
হজ পূর্ণ হওয়ার শর্ত: আরাফাত ও মুযদালিফার অবস্থান
জামে তিরমিযী : ৮৯১
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৯১
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ دَاوُدَ بْنِ أَبِي هِنْدٍ، وَإِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، وَزَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ مُضَرِّسِ بْنِ أَوْسِ بْنِ حَارِثَةَ بْنِ لاَمٍ الطَّائِيِّ، قَالَ أَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِالْمُزْدَلِفَةِ حِينَ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي جِئْتُ مِنْ جَبَلَىْ طَيِّئٍ أَكْلَلْتُ رَاحِلَتِي وَأَتْعَبْتُ نَفْسِي وَاللَّهِ مَا تَرَكْتُ مِنْ حَبْلٍ إِلاَّ وَقَفْتُ عَلَيْهِ فَهَلْ لِي مِنْ حَجٍّ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ شَهِدَ صَلاَتَنَا هَذِهِ وَوَقَفَ مَعَنَا حَتَّى نَدْفَعَ وَقَدْ وَقَفَ بِعَرَفَةَ قَبْلَ ذَلِكَ لَيْلاً أَوْ نَهَارًا فَقَدْ أَتَمَّ حَجَّهُ وَقَضَى تَفَثَهُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . قَالَ قَوْلُهُ " تَفَثَهُ " . يَعْنِي نُسُكَهُ . قَوْلُهُ " مَا تَرَكْتُ مِنْ حَبْلٍ إِلاَّ وَقَفْتُ عَلَيْهِ " . إِذَا كَانَ مِنْ رَمْلٍ يُقَالُ لَهُ حَبْلٌ وَإِذَا كَانَ مِنْ حِجَارَةٍ يُقَالُ لَهُ جَبَلٌ .
উরওয়া ইবনু মুযাররিস ইবনু আওস ইবনু হারিসা ইবনু লাম আত-তাঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি মুযদালিফায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আসলাম, তখন তিনি নামাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি তাইয়ের দুই পাহাড় (অঞ্চল) হতে এসেছি। আমার বাহনকেও আমি ক্লান্ত করে ফেলেছি এবং নিজেকেও খুবই পরিশ্রান্ত করেছি। আল্লাহর শপথ! আমি এমন কোন বালির স্তূপ ছেড়ে যাইনি যেখানে আমি অবস্থান করিনি। আমার কি হজ্জ হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমাদের এই নামাজে যে লোক শরীক হয়েছে, আমাদের সাথে ফিরে আসা পর্যন্ত অবস্থান করেছে এবং এর পূর্বে রাতে বা দিনে আরাফাতে থেকেছে তার হজ্জ পূর্ণ হয়েছে এবং সে লোক তার অপরিচ্ছন্নতা দূর করে নিয়েছে।
সহীহ, ইবনু মা-জাহ (৩০২৬), বুখারী, মুসলিম।এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। তাফাসাহু এর অর্থ তার হজ্জ। বালির স্তুপকে হাবল বলা হয়। পাথরের স্তুপকে জাবাল বলা হয়।
জামে তিরমিযী হাদিস ৮৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক পরিশ্রান্ত হাজির প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। তিনি দূর অঞ্চল থেকে এসে নিজের বাহন ও শরীরকে ক্লান্ত করেছেন এবং পথে বহু স্থানে দাঁড়িয়েছেন। তবু তাঁর মূল প্রশ্ন ছিল—আমার হজ হয়েছে কি? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উত্তরে নির্দিষ্ট দুটি বিষয় বলেন। প্রথমত, তিনি আগে দিনে বা রাতে আরাফাতে অবস্থান করেছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি মুযদালিফায় নবীজির সেই নামাজে শরিক হয়েছেন এবং সবাই রওয়ানা হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করেছেন। এ শর্ত পূরণ হলে তাঁর হজ পূর্ণ হয়েছে এবং তিনি হজের কাজ সম্পন্ন করেছেন। ‘হজ পূর্ণ হওয়ার শর্ত’, ‘রাতে আরাফাতে অবস্থান’ এবং ‘মুযদালিফার নামাজ’ বিষয়ে এই হাদিসটি খুব পরিষ্কার। শুধু কষ্ট করাই নয়, নির্ধারিত আমল ঠিকভাবে সম্পন্ন করাই এখানে মুখ্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দিনে বা রাতে আরাফাতে অবস্থান করা হজের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে এসেছে।
- মুযদালিফার নামাজে শরিক হয়ে রওয়ানা পর্যন্ত অবস্থানের কথা বলা হয়েছে।
- শুধু পরিশ্রম নয়, নির্ধারিত হজের আমল সম্পন্ন করাই মূল বিষয়।
