৭/৪৩. অধ্যায়ঃ
তাওয়াফের দুই রাকাত নামাযের কেরাত
তাওয়াফের নামাজে কাফিরুন ও ইখলাস: সহিহ বর্ণনার দিক
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮৭০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৭০
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ كَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يَقْرَأَ، فِي رَكْعَتَىِ الطَّوَافِ بِـ ( قُلْ يَا أَيُّهَا الْكَافِرُونَ ) وَ ( قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ) . قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ عِمْرَانَ وَحَدِيثُ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ فِي هَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَعَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عِمْرَانَ ضَعِيفٌ فِي الْحَدِيثِ .
জাফর ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্র হতে বর্ণিতঃ
তাওয়াফের দুই রাকাত নামাজে তিনি (মুহাম্মদ আল-বাকির) সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করতে পছন্দ করতেন।
-সনদ সহীহ, মাকতু’।আব্দুল আজীজ ইবনু ইমরানের হাদীসের তুলনায় এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা বেশি সহীহ বলেছেন। কেননা বর্ণনাকারী আবদুল আযীয ইবনু ইমরান হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৭০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: তাওয়াফের নামাজের কিরাআত। এই বর্ণনায় জাফর ইবনু মুহাম্মদ তাঁর পিতা মুহাম্মদ আল-বাকির সম্পর্কে জানান, তিনি তাওয়াফের দুই রাকাত নামাজে সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাস পড়া পছন্দ করতেন। এরপর আবু ঈসা গুরুত্বপূর্ণ হাদিস-সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জাফর তাঁর পিতা থেকে যে বর্ণনা করেছেন সেটিই আবদুল আজিজ ইবনু ইমরানের মাধ্যমে জাবির (রাঃ) হয়ে নবী صلى الله عليه وسلم পর্যন্ত পৌঁছানো বর্ণনার চেয়ে বেশি সহিহ। আবদুল আজিজ ইবনু ইমরানকে তিনি হাদিসে দুর্বল বলেছেন। তাই এখানে সরাসরি নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল হিসেবে নিশ্চিত করার বদলে মুহাম্মদ আল-বাকিরের পছন্দ হিসেবে বক্তব্যটি উপস্থাপন করা বেশি সতর্ক। এই হাদিস রাবি ও সনদের পার্থক্য বুঝে বক্তব্য দেওয়ারও একটি পরিষ্কার উদাহরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুহাম্মদ আল-বাকির তাওয়াফের দুই রাকাতে কাফিরুন ও ইখলাস পড়া পছন্দ করতেন।
- তাঁর বক্তব্যের বর্ণনাকে সরাসরি নববী বর্ণনার চেয়ে বেশি সহিহ বলা হয়েছে।
- আবদুল আজিজ ইবনু ইমরানকে হাদিসে দুর্বল বলা হয়েছে।
- বর্ণনার স্তর না বুঝে সব কথা সরাসরি নবী صلى الله عليه وسلم-এর নামে বলা উচিত নয়।
