৭/৪২. অধ্যায়ঃ

আসর ও ফজরের পরেও তাওয়াফের ক্ষেত্রে তাওয়াফের নামাজ আছে

যেকোনো সময় তাওয়াফ ও নামাজ: বাইতুল্লাহতে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৬৮

حَدَّثَنَا أَبُو عَمَّارٍ، وَعَلِيُّ بْنُ خَشْرَمٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَاهْ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ لاَ تَمْنَعُوا أَحَدًا طَافَ بِهَذَا الْبَيْتِ وَصَلَّى أَيَّةَ سَاعَةٍ شَاءَ مِنْ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ ‏"‏ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي ذَرٍّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَاهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي نَجِيحٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَابَاهْ أَيْضًا ‏.‏ وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي الصَّلاَةِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَبَعْدَ الصُّبْحِ بِمَكَّةَ فَقَالَ بَعْضُهُمْ لاَ بَأْسَ بِالصَّلاَةِ وَالطَّوَافِ بَعْدَ الْعَصْرِ وَبَعْدَ الصُّبْحِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا طَافَ بَعْدَ الْعَصْرِ لَمْ يُصَلِّ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ وَكَذَلِكَ إِنْ طَافَ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ لَمْ يُصَلِّ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ‏.‏ وَاحْتَجُّوا بِحَدِيثِ عُمَرَ أَنَّهُ طَافَ بَعْدَ صَلاَةِ الصُّبْحِ فَلَمْ يُصَلِّ وَخَرَجَ مِنْ مَكَّةَ حَتَّى نَزَلَ بِذِي طُوًى فَصَلَّى بَعْدَ مَا طَلَعَتِ الشَّمْسُ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَمَالِكِ بْنِ أَنَسٍ ‏.‏

জুবাইর ইবনু মুতইম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেনঃ হে আবদ মানাফের বংশধরগণ! তোমরা কোন লোককে রাত ও দিনের যে কোন সময় ইচ্ছা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে এবং নামাজ আদায় করতে বাধা দিও না।

-সহীহ, সহীহ ইবনু মা-জাহ (১২৫৪)।ইবনু আব্বাস ও আবূ যার (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জুবাইর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু আবূ নাজীহও এই হাদীস আবদুল্লাহ ইবনু বাবা হতে বর্ণনা করেছেন। ইমামদের মধ্যে মক্কা শারীফে আসর ও ফজরের নামাযের পর অন্য কোন নামায আদায় করার বৈধতা প্রসঙ্গে মতের অমিল আছে। কিছু সংখ্যক আলিম আসর ও ফজরের পরে নামায ও তাওয়াফে কোন সমস্যা না থাকার কথা বলেছেন। এই অভিমত ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকেরও। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই হাদীসকে তারা প্রমাণ হিসাবে হাযির করেন। আরেক দল আলিম বলেন, আসরের পর যদি কোন লোক তাওয়াফ করে তাহলে সে লোক সূর্য না ডোবা পর্যন্ত তাওয়াফের নামায আদায় করবে না। এমনিভাবে ফজরের পর কোন লোক যদি তাওয়াফ করে তাহলে সে লোক সূর্য না উঠা পর্যন্ত তাওয়াফের নামায আদায় করবে না। তারা নিজেদের মতের অনুকূলে উমার (রাঃ)-এর হাদীস পেশ করেছেন। ফজরের নামাযের পড় তিনি তাওয়াফ করলেন, কিন্তু (তাওয়াফের) নামায আদায় করলেন না। সূর্য উঠার পর তিনি ঐ নামায যীতুয়া নামক জায়গাতে পৌছে আদায় করেন। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও মালিকেরও।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৬৮-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: তাওয়াফের সময়। নবী صلى الله عليه وسلم আবদ মানাফের বংশধরদের উদ্দেশে বলেন, রাত বা দিনের যে সময়ই কেউ বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে এবং নামাজ আদায় করতে চায়, তাকে যেন বাধা দেওয়া না হয়। এই বক্তব্যে হারাম শরিফে ইবাদতের সুযোগ উন্মুক্ত রাখার স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। বর্ণনার শেষ অংশে ফজর ও আসরের পর মক্কায় তাওয়াফের নামাজ নিয়ে আলিমদের মতভেদও উল্লেখ করা হয়েছে। একদল এই হাদিসের ভিত্তিতে তাওয়াফ ও নামাজে অসুবিধা দেখেননি। অন্যদল বলেছেন, ঐ সময় তাওয়াফ করা গেলেও দুই রাকাত নামাজ সূর্য ওঠা বা ডোবা পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হবে। তাই এই হাদিসের ব্যাখ্যায় মূল নববী নির্দেশ এবং পরবর্তী ফিকহি মতভেদ—দুটিই আলাদা করে দেখা দরকার। সরাসরি বক্তব্য হলো, তাওয়াফ ও নামাজ করতে আসা কাউকে বাধা দিও না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাত বা দিনের যেকোনো সময় তাওয়াফ করতে আসা ব্যক্তিকে বাধা না দেওয়ার নির্দেশ আছে।
  • বাইতুল্লাহতে নামাজ আদায়ের সুযোগ বন্ধ না করার কথা বলা হয়েছে।
  • ফজর ও আসরের পর তাওয়াফের দুই রাকাত নিয়ে আলিমদের মতভেদ উল্লেখিত।
  • মূল হাদিস ও পরবর্তী ফিকহি মতামত আলাদা করে বোঝা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন