৭/২৫. অধ্যায়ঃ

ইহরামধারী ব্যক্তির শিকারের গোশত খাওয়া প্রসঙ্গে

ইহরামে শিকারের গোশত খাওয়া: বৈধতার দুই শর্ত

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৪৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ أَبِي عَمْرٍو، عَنِ الْمُطَّلِبِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ صَيْدُ الْبَرِّ لَكُمْ حَلاَلٌ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ مَا لَمْ تَصِيدُوهُ أَوْ يُصَدْ لَكُمْ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ وَطَلْحَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ جَابِرٍ حَدِيثٌ مُفَسَّرٌ ‏.‏ وَالْمُطَّلِبُ لاَ نَعْرِفُ لَهُ سَمَاعًا مِنْ جَابِرٍ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَرَوْنَ بِأَكْلِ الصَّيْدِ لِلْمُحْرِمِ بَأْسًا إِذَا لَمْ يَصْطَدْهُ أَوْ لَمْ يُصْطَدْ مِنْ أَجْلِهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا أَحْسَنُ حَدِيثٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ وَأَفْسَرُ وَالَعَمَلُ عَلَى هَذَا وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ইহরাম অবস্থায়ও স্থলভাগের শিকারকৃত প্রাণীর গোশত তোমাদের জন্য বৈধ, যদি না তোমরা নিজেরা তা শিকার করে থাক বা তোমাদের উদ্দেশে তা শিকার করা হয়।

যঈফ, মিশকাত, তাহক্বীক্ব ছানী (২৭০০),এ অনুচ্ছেদে আবূ ক্বাতাদা ও তালহা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেন, জাবির (রাঃ) বর্ণিত হাদীসটি একটি বিস্তারিত বর্ণনা। মুত্তালিব জাবির (রাঃ)-এর হাদীস শুনেছেন কি-না তা আমাদের জানা নেই। একদল ‘আলিমের মতে যদি মুহরিম ব্যক্তি নিজে শিকার না করে বা তার উদ্দেশে শিকার না করা হয় তবে তার জন্য এর গোশ্‌ত খাওয়াতে কোন সমস্যা নেই। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, এ অনুচ্ছেদে যতগুলো হাদীস বর্ণিত আছে তার মধ্যে এটি সবচেয়ে উত্তম এবং খুব বেশী যুক্তিসম্মত। এ হাদীস অনুযায়ী ‘আমল করতে হবে। ইমাম আহ্‌মাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এরও উক্ত অভিমত।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৪৬-এর সারসংক্ষেপ

মূল বিষয়: ইহরামে শিকার। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইহরাম অবস্থায় স্থলভাগের শিকারকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়ার বিষয়ে পরিষ্কার দুটি শর্ত বলেছেন। প্রথম শর্ত হলো, ইহরামধারী ব্যক্তি নিজে প্রাণীটি শিকার করেনি। দ্বিতীয় শর্ত হলো, তাকে খাওয়ানোর উদ্দেশ্যে প্রাণীটি শিকার করা হয়নি। এই দুই অবস্থার বাইরে অন্যের শিকার করা স্থলজ প্রাণীর গোশত মুহরিমের জন্য বৈধ বলে হাদিসে উল্লেখ আছে। তাই ইহরামে শিকারের গোশত খাওয়া সম্পর্কে জানতে শুধু গোশতটি কে দিয়েছে, তা দেখা যথেষ্ট নয়। শিকারটি কে করেছে এবং কার উদ্দেশ্যে করেছে—এ দুটিও দেখতে হবে। ব্যাখ্যায় হাদিসের নির্দিষ্ট শর্তগুলোই রাখা হয়েছে। কোন প্রাণী, কোন স্থান বা অন্য কোনো ব্যতিক্রম নিয়ে এখানে আলাদা আলোচনা করা হয়নি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুহরিম নিজে শিকার না করলে শিকারকৃত গোশত খেতে পারে বলে হাদিসে এসেছে।
  • মুহরিমের উদ্দেশ্যে বিশেষভাবে শিকার করা হলে তা খাওয়ার অনুমতি এই বর্ণনায় নেই।
  • শিকার খাওয়ার ক্ষেত্রে শিকারকারীর পরিচয় ও উদ্দেশ্য—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন