১/৬১. অধ্যায়ঃ
যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে ওজু থাকবে কিনা
বুসরা (রাঃ)-এর হাদিস: যৌনাঙ্গ স্পর্শ ও ওজুর সনদ আলোচনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৪
وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ . وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ الأَوْزَاعِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ بُسْرَةَ . وَقَالَ أَبُو زُرْعَةَ حَدِيثُ أُمِّ حَبِيبَةَ فِي هَذَا الْبَابِ صَحِيحٌ وَهُوَ حَدِيثُ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ . وَقَالَ مُحَمَّدٌ لَمْ يَسْمَعْ مَكْحُولٌ مِنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ وَرَوَى مَكْحُولٌ عَنْ رَجُلٍ عَنْ عَنْبَسَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ . وَكَأَنَّهُ لَمْ يَرَ هَذَا الْحَدِيثَ صَحِيحًا .
আবুল যিনাদ ওরওয়ার সূত্রে হতে বর্ণিতঃ
আবু যিনাদ, উরওয়া (রহঃ) সূত্রে বুসরা (রাঃ) হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
সহীহ্। দেখুন পূর্বের হাদীস।রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একাধিক সাহাবী ও তাবিঈন এই মত দিয়েছেন যে, যৌনাংগ স্পর্শ করলে ওযূ নষ্ট হবে। ইমাম আওযাঈ, শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও এ কথাই বলেছেন। মুহাম্মাদ (ইমাম বুখারী) বলেন, এ অনুচ্ছেদে বুসরা (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হাদীসই বেশি সহীহ। আবূ যুর’আহ্ বলেনঃ এ অনুচ্ছেদে উম্মু হাবীবা (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হাদীসটি বেশি সহীহ। এর সনদসূত্রটি এরূপঃ ‘আলা ইবনু হারিস-মাকহূল হতে, তিনি আনবাসা ইবনু আবূ সুফিয়ান হতে, তিনি উম্মু হাবীবা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী বলেন, আনবাসা ইবনু আবূ সুফিয়ান হতে মাকহূল কখনও কিছু অবগত হননি। মাকহূল এক ব্যক্তির সূত্রে আনবাসা হতে এটা ছাড়া অন্য হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (বুখারী) উম্মু হাবীবা (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হাদীসটি সহীহ মনে করেন না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মূলত বুসরা (রাঃ)-এর সূত্রে আসা অনুরূপ বর্ণনার কথা বলা হয়েছে। আবু যিনাদ উরওয়া সূত্রে বুসরা (রাঃ) থেকে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করেছেন। এখানে আরও উল্লেখ আছে যে একাধিক সাহাবী ও তাবিঈ এই মতের সঙ্গে ছিলেন, এবং কয়েকজন ইমামের মতও একই দিকে গেছে। তবে পাঠকের জন্য মূল বিষয় হলো, এটি যৌনাঙ্গ স্পর্শ করলে ওজুর আলোচনায় বর্ণনাসূত্র ও আলেমদের গ্রহণের কথা জানায়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, কোনো আমলের বিধান বোঝার সময় শুধু একটি বাক্য নয়, সেই কথার সূত্র, বর্ণনাকারী এবং আলেমদের বিচারও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত দাবি না করে বলা যায়, এই বর্ণনা ওজুর বিষয়ে সতর্কতার দিকটি সামনে আনে। তাই এখানে সংযমী ভাষাই বেশি উপযুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বুসরা (রাঃ)-এর বর্ণনা যৌনাঙ্গ স্পর্শ ও ওজুর আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ।
- হাদিস বুঝতে বর্ণনাকারী ও সূত্রের কথা খেয়াল করা দরকার।
- আলেমরা একই বিষয়ের ভিন্ন সূত্র নিয়ে আলোচনা করেছেন।
- ওজুর বিষয়ে সতর্ক থাকা সালাতের পবিত্রতার অংশ।
