৭/১৫. অধ্যায়ঃ
উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ
উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠের নববী নির্দেশ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮২৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮২৯
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، وَهُوَ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، عَنْ خَلاَّدِ بْنِ السَّائِبِ بْنِ خَلاَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَتَانِي جِبْرِيلُ فَأَمَرَنِي أَنْ آمُرَ أَصْحَابِي أَنْ يَرْفَعُوا أَصْوَاتَهُمْ بِالإِهْلاَلِ وَالتَّلْبِيَةِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ خَلاَّدٍ عَنْ أَبِيهِ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ خَلاَّدِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . وَلاَ يَصِحُّ وَالصَّحِيحُ هُوَ عَنْ خَلاَّدِ بْنِ السَّائِبِ عَنْ أَبِيهِ . وَهُوَ خَلاَّدُ بْنُ السَّائِبِ بْنِ خَلاَّدِ بْنِ سُوَيْدٍ الأَنْصَارِيُّ عَنْ أَبِيهِ.
খাল্লাদ ইবনুল সাইব (রাঃ) হতে তাঁর পিতার সূত্র হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ জিবরাঈল (আঃ) আমার নিকট এসে বলেন যে, আমার সাহাবীদেরকে যেন আমি উচ্চস্বরে ইহলাল (উচ্চস্বরে তালবিয়া পাঠ) ও তালবিয়া পাঠের নির্দেশ প্রদান করি।
-সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯২২)।যাইদ ইবনু খালিদ, আবূ হুরাইরা ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। খাল্লাদ হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। এই হাদীসটিকে কেউ কেউ খাল্লাদ ইবনু সাইব হতে, তিনি যাইদ ইবনু খালিদ (রাঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটি সহীহ্ নয়। খাল্লাদ ইবনুস সাইব তার পিতার সূত্রে এই বর্ণনাটি সঠিক।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানান, জিবরাঈল (আঃ) তাঁর কাছে এসে সাহাবিদের উচ্চস্বরে ইহলাল ও তালবিয়া পাঠের নির্দেশ দিতে বলেছেন। ইহলাল এখানে ইহরামের ঘোষণা এবং তালবিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত উচ্চারণ বোঝায়। বর্ণনাটি তালবিয়া শুধু মনে মনে বা খুব নিচু স্বরে বলার বিষয় নয়—বরং সাহাবিদের আওয়াজ উঁচু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, এ কথা স্পষ্ট করে। এর মাধ্যমে হজ্জ ও উমরার এই বিশেষ জিকর প্রকাশ্যে উচ্চারণের গুরুত্ব বোঝা যায়। তবে হাদিসে এমন আওয়াজের কথা নেই যা অন্যকে কষ্ট দেয় বা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। তাই মূল বক্তব্য হলো, তালবিয়া স্পষ্ট ও শ্রুতিযোগ্যভাবে বলা। একজন হাজি এ নির্দেশ মনে রেখে আল্লাহর ডাকে নিজের সাড়া প্রকাশ করতে পারেন এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেখানো পদ্ধতিকে অনুসরণ করতে পারেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিবরাঈল (আঃ) উচ্চস্বরে ইহলাল ও তালবিয়ার নির্দেশ পৌঁছে দিয়েছেন।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم সাহাবিদের সেই নির্দেশ জানাতে আদিষ্ট হয়েছেন।
- তালবিয়া স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করা এই হাদিসের সরাসরি শিক্ষা।
