৭/১৩. অধ্যায়ঃ
তালবিয়া পাঠ করা
নববী তালবিয়া ও ইবন উমর (রাঃ)-এর অতিরিক্ত বাক্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮২৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮২৬
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ أَهَلَّ فَانْطَلَقَ يُهِلُّ فَيَقُولُ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ . قَالَ وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَقُولُ هَذِهِ تَلْبِيَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . وَكَانَ يَزِيدُ مِنْ عِنْدِهِ فِي أَثَرِ تَلْبِيَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ وَسَعْدَيْكَ وَالْخَيْرُ فِي يَدَيْكَ لَبَّيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইহরাম বাঁধার সময় উচ্চস্বরে বলতেনঃ “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকা লা শরীক লাকা লাব্বাইকা, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলকা, লা শরীক লাকা।” বর্ণনাকারী বলেন, আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) বলতেন, এটা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তালবিয়া। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর তালবিয়ার সাথে নিজের পক্ষ হতে তিনি এটুকু অংশ বাড়িয়ে পাঠ করতেনঃ লাব্বাইকা, লাব্বাইকা ও সা’দাইকা ওয়াল খাইরু ফি ইয়াদাইকা, লাব্বাইকা ওয়ার রাগবা-উ ইলাইকা ওয়াল আমালু। “আমি হাজির, আমি হাজির, আমি ভাগ্যবান, সকল প্রকার কল্যাণ তোমারই হাতে, আমি হাজির, সকল প্রকার আশা-আকাঙ্ক্ষা তোমার প্রতিই, আমলও তোমার (সন্তুষ্টির) জন্যই।”
-সহীহ, প্রাগুক্ত, বুখারী, মুসলিম।এই হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে তালবিয়ার দুটি অংশ স্পষ্টভাবে আলাদা করা হয়েছে। প্রথম অংশটি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর তালবিয়া: আল্লাহর ডাকে উপস্থিতি, তাঁর শরিকহীনতা, প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্বের ঘোষণা। আবদুল্লাহ ইবন উমর (রাঃ) নিজেই বলতেন, এটিই রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর তালবিয়া। এরপর তিনি নিজের পক্ষ থেকে আরও কিছু বাক্য যোগ করতেন। সেখানে আল্লাহর হাতে সকল কল্যাণ থাকা, তাঁর প্রতিই আশা এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য আমলের কথা বলা হয়েছে। এই পার্থক্যটি জানা জরুরি, যাতে নববী শব্দ ও সাহাবির সংযোজন এক করে না বলা হয়। হাদিসটি তালবিয়ার অর্থবহ ভাষা, আল্লাহর প্রতি আশা এবং ইবাদতের উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বর্ণনা উদ্ধৃত করার সময় কোন অংশ কার—তা পরিষ্কারভাবে বলা শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর মূল তালবিয়া নির্দিষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
- ইবন উমর (রাঃ) নববী তালবিয়ার পরে নিজের কিছু বাক্য যোগ করতেন।
- বর্ণনায় নববী শব্দ ও সাহাবির সংযোজন আলাদা করে বলা উচিত।
- তালবিয়া আল্লাহর প্রতি আশা ও আমলের নিবেদন স্মরণ করায়।
