৭/১৩. অধ্যায়ঃ
তালবিয়া পাঠ করা
তালবিয়ার দোয়া: লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইকের বাংলা অর্থ
জামে তিরমিযী : ৮২৫
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮২৫
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ تَلْبِيَةَ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم كَانَتْ " لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ وَجَابِرٍ وَعَائِشَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ وَالشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَإِنْ زَادَ فِي التَّلْبِيَةِ شَيْئًا مِنْ تَعْظِيمِ اللَّهِ فَلاَ بَأْسَ إِنْ شَاءَ اللَّهُ وَأَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ يَقْتَصِرَ عَلَى تَلْبِيَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . قَالَ الشَّافِعِيُّ وَإِنَّمَا قُلْنَا لاَ بَأْسَ بِزِيَادَةِ تَعْظِيمِ اللَّهِ فِيهَا لِمَا جَاءَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَهُوَ حَفِظَ التَّلْبِيَةَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ زَادَ ابْنُ عُمَرَ فِي تَلْبِيَتِهِ مِنْ قِبَلِهِ لَبَّيْكَ وَالرَّغْبَاءُ إِلَيْكَ وَالْعَمَلُ .
ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিম্নরূপ তালবিয়া পাঠ করতেনঃ لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْדَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لاَ شَرِيكَ لَكَ “আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির; তোমার কোন শরীক নেই, আমি হাজির; সকল প্রশংসা ও সকল নিয়ামত তোমারই, সমস্ত বিশ্বের রাজত্ব তোমারই; তোমার কোন শরীক নেই।”
-সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯১৮), বুখারী, মুসলিম।আবূ ঈসা বলেন, ইবনু মাসঊদ, জাবির, আইশা, ইবনু আব্বাস ও আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। তিনি আরও বলেন, ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ্। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করার কথা বলেছেন। এই অভিমত সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর। ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, কোন লোক যদি আল্লাহ্ তা’আলার মহত্ব ব্যঞ্জক কোন শব্দ নিজের পক্ষ হতে তালবিয়াতে বাড়িয়ে নেয় তবে ইনশাআল্লাহ্ এতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আমার নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর পাঠকৃত তালবিয়াতে সন্তুষ্ট থাকাই বেশী প্রিয়।ইমাম শাফিঈ বলেন, “তালবিয়ার মধ্যে আল্লাহ্ তা’আলার মহত্ব ব্যঞ্জক কোন শব্দ যুক্ত করাতে কোন সমস্যা নেই” ইবনু উমার (রাঃ) -এর এই রিওয়ায়াতটি হল আমার এই কথার দলীল। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে তিনি তালবিয়ার শব্দ সংরক্ষণ করেছেন। এরপরও তিনি এতে নিজের পক্ষ হতে বাড়িয়েছেন (নিম্নের হাদীস)।
জামে তিরমিযী হাদিস ৮২৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর তালবিয়ার মূল বাক্য তুলে ধরা হয়েছে। হাজি বলেন, “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক”—অর্থাৎ হে আল্লাহ, আমি আপনার ডাকে হাজির। এরপর বারবার ঘোষণা করা হয়, আল্লাহর কোনো শরিক নেই। সকল প্রশংসা, সকল নিয়ামত এবং রাজত্ব কেবল তাঁরই। তাই তালবিয়া শুধু সফরের একটি উচ্চারণ নয়; এটি তাওহিদ, কৃতজ্ঞতা ও আনুগত্যের ঘোষণা। হজ্জ বা উমরার ইহরামে এই শব্দগুলো বলার সময় একজন মুসলিম নিজের মনকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে নেন। হাদিসের পাঠ অনুযায়ী তালবিয়ার দোয়া শুদ্ধভাবে শেখা ও অর্থ বুঝে পড়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে মুখের উচ্চারণের সঙ্গে অন্তরের সাড়াও যুক্ত হয়। মূল বর্ণনাটি নবী صلى الله عليه وسلم-এর ব্যবহৃত তালবিয়াকেই সামনে আনে এবং সেটিকেই শেখার ভিত্তি করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তালবিয়ায় আল্লাহর ডাকে সাড়া দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে।
- তালবিয়ার মূল কথা আল্লাহর একত্ব ও শরিকহীনতা স্বীকার করা।
- সকল প্রশংসা, নিয়ামত ও রাজত্ব আল্লাহর—এ কথা তালবিয়ায় বলা হয়।
- তালবিয়ার অর্থ বুঝে পড়লে এর বার্তা মনে রাখা সহজ হয়।
