৬/৮৩. অধ্যায়ঃ
রামাযান মাসে (রাত্রের ইবাদত) দণ্ডায়মান হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা এবং এর ফযীলত
ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের কিয়ামের ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৮০৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮০৮
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُرَغِّبُ فِي قِيَامِ رَمَضَانَ مِنْ غَيْرِ أَنْ يَأْمُرَهُمْ بِعَزِيمَةٍ وَيَقُولُ " مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " . فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ ثُمَّ كَانَ الأَمْرُ كَذَلِكَ فِي خِلاَفَةِ أَبِي بَكْرٍ وَصَدْرًا مِنْ خِلاَفَةِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ عَلَى ذَلِكَ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ أَيْضًا عَنِ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ عن النبي قال أبو عيسى هذا حديث حسن صحيح.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রমজান (রাত্রি জেগে) ইবাদত-বন্দিগীতে মশগুল থাকতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উৎসাহিত করতেন, তবে সেটাকে বাধ্যতামূলক হিসেবে নির্দেশ দেননি। তিনি বলতেন: ঈমানের সাথে এবং সাওয়াবের আশা করে যে লোক রমজান মাসে (রাতে ইবাদতে) দণ্ডায়মান হবে, সে লোকের পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে। এ নিয়মই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যু পর্যন্ত চালু ছিল। এ বিষয়টি আবু বকর (রাঃ)-এর খিলাফত এবং উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর খিলাফতের প্রথম দিকেও এমনই ছিল।
-সহীহ্, সহীহ আবূ দাঊদ (১২৪১), নাসা-ঈ, ইমাম বুখারীর মতে মৃত্যু পর্যন্ত...এই বাক্যাংশটি যুহরী হাদীসে সংযোগ করেছেন।আইশা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। যুহরী-উরওয়া হতে, তিনি আইশা (রাঃ)-হতে এই সূত্রেও এই হাদীসটি বর্ণিত আছে। এই হাদীসিটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানের রাতের ইবাদত বা কিয়ামের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মানুষকে এ আমলে আগ্রহী করতেন, তবে এটিকে বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে চাপিয়ে দেননি। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং আল্লাহর কাছে সওয়াব পাওয়ার আশা নিয়ে রমজানে রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, তার আগের গুনাহ ক্ষমা করা হয়। এখানে শুধু রাত জাগাই মূল কথা নয়; ঈমান এবং সওয়াবের আশা—দুটি নিয়তের কথা স্পষ্টভাবে আছে। বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর মৃত্যু পর্যন্ত এই ধারা চলেছিল এবং আবু বকর রা.-এর খিলাফত ও উমর রা.-এর খিলাফতের প্রথম দিকেও একইভাবে ছিল। তাই হাদিসটি রমজানের কিয়ামের ফজিলত, আন্তরিক নিয়ত এবং আমলের ধারাবাহিকতা শেখায়। এই নিয়তভিত্তিক শিক্ষা রমজানের রাতকে অর্থপূর্ণভাবে কাজে লাগাতে সহায়তা করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের রাতের কিয়াম একটি উৎসাহিত ইবাদত।
- এই আমলে ঈমান ও সওয়াবের আশা থাকা জরুরি।
- রমজানের কিয়ামকে হাদিসে বাধ্যতামূলক নির্দেশ হিসেবে দেওয়া হয়নি।
- এই আমলের ধারা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর পরও চলমান ছিল।
