৬/৬৪. অধ্যায়ঃ
রোযা থাকাবস্থায় দাওয়াত গ্রহণ করা
রোজা অবস্থায় খাবারের দাওয়াত পেলে কী করবেন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৮০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৮০
حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَوَاءٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دُعِيَ أَحَدُكُمْ إِلَى طَعَامٍ فَلْيُجِبْ فَإِنْ كَانَ صَائِمًا فَلْيُصَلِّ " . يَعْنِي الدُّعَاءَ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কাউকে খাবারের দাওয়াত দেওয়া হলে সে লোক যেন তা গ্রহণ করে। সে রোজাদার হলে (দাওয়াতকারীর জন্য) যেন দোয়া করে।
-সহীহ্, ইবনু মা-জাহ (১৭৫০), মুসলিম
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো খাবারের দাওয়াত এবং রোজাদারের আচরণ। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কাউকে খাবারের দাওয়াত দেওয়া হলে সে যেন সেই দাওয়াত গ্রহণ করে। এরপর রোজাদারের জন্য আলাদা নির্দেশ দিয়েছেন। দাওয়াতপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি রোজা পালন করে, তাহলে সে দাওয়াতকারীর জন্য দোয়া করবে। অর্থাৎ রোজার কারণে খাবার গ্রহণ না করলেও দাওয়াতের প্রতি সম্পূর্ণ উদাসীন না হয়ে দাওয়াতকারীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার এবং তার জন্য দোয়া করার সুযোগ রয়েছে। হাদিসের আরবি বক্তব্যে সালাত শব্দ ব্যবহার হলেও বর্ণনার ব্যাখ্যায় এর অর্থ দোয়া বলা হয়েছে। এখানে রোজাদারকে রোজা ভাঙতে বলা হয়নি। আবার দাওয়াতে গিয়ে অবশ্যই খাবার গ্রহণ করতে হবে—এমন কথাও রোজাদারের ক্ষেত্রে বলা হয়নি। মূল শিক্ষা হলো, সামাজিক সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের রোজা রক্ষা করা এবং আয়োজকের জন্য কল্যাণের দোয়া করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবারের দাওয়াত পেলে তা গ্রহণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- রোজাদার ব্যক্তি দাওয়াতকারীর জন্য দোয়া করবে।
- রোজার কারণে খাবার না খেলেও সৌজন্য বজায় রাখা যায়।
- এই বর্ণনায় রোজাদারকে রোজা ভাঙার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
