৬/৫১. অধ্যায়ঃ

যুলহিজ্জ মাসের (প্রথম) দশ দিন রোযা পালন প্রসঙ্গে

যিলহজ্জের প্রথম দশ দিনের রোজা: আয়িশার দেখা বর্ণনা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৫৬

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَائِمًا فِي الْعَشْرِ قَطُّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ ‏.‏ وَرَوَى الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُهُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَمْ يُرَ صَائِمًا فِي الْعَشْرِ ‏.‏ وَرَوَى أَبُو الأَحْوَصِ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَائِشَةَ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ الأَسْوَدِ ‏.‏ وَقَدِ اخْتَلَفُوا عَلَى مَنْصُورٍ فِي هَذَا الْحَدِيثِ وَرِوَايَةُ الأَعْمَشِ أَصَحُّ وَأَوْصَلُ إِسْنَادًا ‏.‏ قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ يَقُولُ سَمِعْتُ وَكِيعًا يَقُولُ الأَعْمَشُ أَحْفَظُ لإِسْنَادِ إِبْرَاهِيمَ مِنْ مَنْصُورٍ ‏.‏

আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি কখনও রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে (যিলহজ্জ মাসের) দশ দিন রোজা পালন করতে দেখিনি।

-সহীহ্‌, ইবনু মা-জাহ (১৭২৯), মুসলিমআবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি একাধিক বর্ণনাকারী আমাশ হতে, তিনি ইব্‌রাহীম হতে, তিনি আসওয়াদ হতে, তিনি আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে এভাবেই বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসটিকে সাওরী প্রমুখ বর্ণনাকারী মানসূর হতে, তিনি ইবরাহীম... সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এই দশ দিন কখনও রোযা অবস্থায় দেখা যায়নি। এই হাদীসটিকে আবূল আহওয়াস মানসূর হতে, তিনি ইবরাহীম হতে, তিনি আইশা (রাঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বর্ণনাকারী আসওয়াদের উল্লেখ করেননি। এই হাদীসের সনদে মানসূরের পরবর্তী বর্ণনাকারীগণ উক্ত মতবিরোধ করেছেন। আমাশের বর্ণনাটিই এই সনদগুলোর মধ্যে অধিক সহীহ্‌ এবং মুত্তাসিল। ওয়াকী বলেন, মানসূরের নিকট হতে বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবরাহীম অপেক্ষা আমাশ বেশি বিশ্বস্ত সংরক্ষক।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৫৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-এর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বলা হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে যিলহজ্জ মাসের দশ দিনে কখনও রোজা রাখতে দেখেননি। এখানে শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ—তিনি ‘দেখিনি’ বলেছেন। এটি তাঁর দেখা ও জানা অভিজ্ঞতার বর্ণনা। তাই এই হাদিস থেকে সরাসরি এতটুকুই বলা যায় যে, আয়িশা (রাঃ) নবীজিকে ওই দিনগুলোতে রোজা অবস্থায় দেখেননি। একই অধ্যায়ের পরের হাদিসে যিলহজ্জের দশ দিনের সৎকাজের বড় মর্যাদা এসেছে। ফলে দুটি বর্ণনা পাশাপাশি পড়া দরকার। একটি নির্দিষ্টভাবে রোজা দেখার বিষয় বলছে, অন্যটি সব ধরনের সৎকাজের ফজিলত বলছে। এই হাদিসের ভিত্তিতে অন্য আমলকে অস্বীকার করা ঠিক হবে না। এর মূল শিক্ষা হলো বর্ণনার ভাষা যতটুকু, ব্যাখ্যাও ততটুকু রাখা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আয়িশা (রাঃ) নবীজিকে যিলহজ্জের দশ দিনে রোজা রাখতে দেখেননি।
  • ‘দেখিনি’ কথাটি তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ বোঝায়।
  • এই বর্ণনাকে যিলহজ্জের দশ দিনের সৎকাজের অন্য হাদিসের সঙ্গে মিলিয়ে পড়তে হবে।
  • হাদিসের ভাষার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন