৬/৪২. অধ্যায়ঃ
শুধুমাত্র জুমুআর দিন রোযা পালন করা মাকরূহ
জুমার দিনের রোজা: একদিন আলাদা না রাখার নির্দেশ
জামে তিরমিযী : ৭৪৩
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৪৩
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يَصُومُ أَحَدُكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِلاَّ أَنْ يَصُومَ قَبْلَهُ أَوْ يَصُومَ بَعْدَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَجَابِرٍ وَجُنَادَةَ الأَزْدِيِّ وَجُوَيْرِيَةَ وَأَنَسٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَكْرَهُونَ لِلرَّجُلِ أَنْ يَخْتَصَّ يَوْمَ الْجُمُعَةِ بِصِيَامٍ لاَ يَصُومُ قَبْلَهُ وَلاَ بَعْدَهُ . وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যেন শুধুমাত্র জুমু’আর দিনে রোযা না রাখে, জুমু’আর আগের দিন বা পরের দিন রোযা না রেখে।
-সহীহ্ ইবনু মা-জাহ (১৭২৩), বুখারী, মুসলিমআলী, জাবির, জুনাদা আল-আয্দী, জুওয়াইরিয়া, আনাস এবং আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবূ হুরায়রা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মত প্রকাশ করেছেন। তারা আগের বা পরের দিনের সাথে না মিলিয়ে শুধুমাত্র জুমু’আর দিনে রোযা পালন করাকে মাকরূহ্ বলেছেন। ইমাম আহ্মাদ ও ইসহাকও এই কথা বলেছেন।
জামে তিরমিযী হাদিস ৭৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের রোজা সম্পর্কে একটি পরিষ্কার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ যেন শুধু জুমার দিনকে আলাদা করে রোজা না রাখে। বরং জুমার আগের দিন অথবা পরের দিনও রোজা রাখতে হবে। অর্থাৎ নিষেধটি রোজার বিরুদ্ধে নয়; জুমার দিনকে এককভাবে বেছে নেওয়ার বিষয়ে। এতে নফল রোজা পালনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য এবং নববী পদ্ধতি অনুসরণের শিক্ষা পাওয়া যায়। কেউ যদি বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অথবা শুক্রবার ও শনিবার রোজা রাখে, তাহলে এই হাদিসে বর্ণিত এককভাবে শুক্রবার রাখার অবস্থা থাকে না। ব্যাখ্যাটি হাদিসের সরাসরি কথার মধ্যেই সীমিত—জুমার দিনকে একা নির্দিষ্ট না করা। তাই জুমার রোজা রাখতে চাইলে পাশের একটি দিন যুক্ত করার বিষয়টি আগে থেকেই পরিকল্পনায় রাখা সহজ ও হাদিসের নির্দেশনার কাছাকাছি আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শুধু জুমার দিনকে আলাদা করে নফল রোজা রাখা উচিত নয়।
- জুমার আগের দিন বা পরের দিন রোজা যোগ করতে হবে।
- নফল ইবাদতেও রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর শেখানো পদ্ধতি মানা দরকার।
- রোজার দিন ঠিক করার সময় পাশের দিনটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা যায়।
