৬/২০. অধ্যায়ঃ
যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিকদের রোজা ভেঙে ফেলার অনুমতি আছে
যুদ্ধের সফরে রোজা ভাঙার বর্ণনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭১৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭১৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ يَزِيدَ بْنِ أَبِي حَبِيبٍ، عَنْ مَعْمَرِ بْنِ أَبِي حُيَيَّةَ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، أَنَّهُ سَأَلَهُ عَنِ الصَّوْمِ، فِي السَّفَرِ فَحَدَّثَ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي رَمَضَانَ غَزْوَتَيْنِ يَوْمَ بَدْرٍ وَالْفَتْحِ فَأَفْطَرْنَا فِيهِمَا . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُمَرَ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَمَرَ بِالْفِطْرِ فِي غَزْوَةٍ غَزَاهَا . وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ نَحْوُ هَذَا أَنَّهُ رَخَّصَ فِي الإِفْطَارِ عِنْدَ لِقَاءِ الْعَدُوِّ وَبِهِ يَقُولُ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ .
সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাকে সফরে রোযা রাখা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বলেছেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে রমজান মাসে দুটি যুদ্ধ করেছি— বদর ও মক্কা বিজয় যুদ্ধ। এ সময় আমরা রোযা ভেঙ্গে ফেলেছি।
সনদ দুর্বলএই অনুচ্ছেদে আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, উপোরোক্ত হাদীসটি শুধুমাত্র এই সূত্রেই আমরা জেনেছি। আর আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন এক যুদ্ধে রোযা ভেঙে ফেলার হুকুম করেছিলেন। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতেও এরকমই বর্ণিত আছে যে, তিনি শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময় রোযা না রাখার সম্মতি (রুখসাত) দিয়েছেন। কোন কোন আলিমেরও এই মত।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর বক্তব্য এসেছে। তাঁকে সফরে রোজা রাখার বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে দুটি যুদ্ধ—বদর ও মক্কা বিজয়ের অভিযানে—তাঁরা রোজা ভেঙেছিলেন। বর্ণনাটি বিশেষভাবে যুদ্ধের সফরের ঘটনা তুলে ধরে। এতে বোঝা যায়, কঠিন যাত্রা ও যুদ্ধের প্রস্তুতির অবস্থায় রোজা না রাখার সুযোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এই হাদিসে সব ধরনের সফরের জন্য একমাত্র সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। বরং নির্দিষ্ট দুই অভিযানের বাস্তব আমল বলা হয়েছে। পাঠের শেষে শত্রুর মুখোমুখি হওয়ার সময় রোজা ভাঙার অনুমতির কথাও উল্লেখ আছে। তাই মূল শিক্ষা হলো প্রয়োজন ও শক্তির দাবি সামনে এলে শরিয়তের দেওয়া ছাড় গ্রহণ করা দোষের নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বদর ও মক্কা বিজয়ের অভিযানে রোজা ভাঙা হয়েছিল।
- যুদ্ধের সফরে শারীরিক সক্ষমতা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
- এই বর্ণনা নির্দিষ্ট দুই অভিযানের ঘটনা বলে।
- শরিয়তের বৈধ ছাড় গ্রহণ করাকে অবহেলা করা উচিত নয়।
