৬/৯. অধ্যায়ঃ

প্রত্যেক অঞ্চলের লোকদের জন্য তাদের চাঁদ দেখাই ধর্তব্য হবে

স্থানীয় চাঁদ দেখা: শাম ও মদিনার রোজা শুরুর ঘটনা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৯৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَرْمَلَةَ، أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، أَنَّ أُمَّ الْفَضْلِ بِنْتَ الْحَارِثِ، بَعَثَتْهُ إِلَى مُعَاوِيَةَ بِالشَّامِ ‏.‏ قَالَ فَقَدِمْتُ الشَّامَ فَقَضَيْتُ حَاجَتَهَا وَاسْتُهِلَّ عَلَىَّ هِلاَلُ رَمَضَانَ وَأَنَا بِالشَّامِ فَرَأَيْنَا الْهِلاَلَ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ثُمَّ قَدِمْتُ الْمَدِينَةَ فِي آخِرِ الشَّهْرِ فَسَأَلَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ ثُمَّ ذَكَرَ الْهِلاَلَ فَقَالَ مَتَى رَأَيْتُمُ الْهِلاَلَ فَقُلْتُ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ ‏.‏ فَقَالَ أَأَنْتَ رَأَيْتَهُ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ فَقُلْتُ رَآهُ النَّاسُ وَصَامُوا وَصَامَ مُعَاوِيَةُ ‏.‏ قَالَ لَكِنْ رَأَيْنَاهُ لَيْلَةَ السَّبْتِ فَلاَ نَزَالُ نَصُومُ حَتَّى نُكْمِلَ ثَلاَثِينَ يَوْمًا أَوْ نَرَاهُ ‏.‏ فَقُلْتُ أَلاَ تَكْتَفِي بِرُؤْيَةِ مُعَاوِيَةَ وَصِيَامِهِ قَالَ لاَ هَكَذَا أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ لِكُلِّ أَهْلِ بَلَدٍ رُؤْيَتَهُمْ ‏.‏

কুরাইব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

মুআবিয়া (রাঃ)-এর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে উম্মুল ফজল বিনতুল হারিস (রাঃ) তাকে শামে (সিরিয়ায়) প্রেরণ করেন। কুরাইব (রহঃ) বলেন, সিরিয়ায় পৌঁছার পর আমি উম্মুল ফজল (রাঃ)-এর কাজটি শেষ করলাম।আমি সিরিয়ায় থাকা অবস্থায়ই রমজান মাসের চাঁদ দেখতে পাওয়া গেল। আমরা জুমার রাতে (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়) চাঁদ দেখতে পেলাম। রমজানের শেষের দিকে আমি মাদীনায় ফিরে আসলাম।ইবনু আব্বাস (রাঃ) আমাকে (কুশলাদি) জিজ্ঞাসা করার পর চাঁদ দেখা প্রসঙ্গে উল্লেখ করে বললেন, কোন দিন তোমরা চাঁদ দেখতে পেয়েছিলে? আমি বললাম, জুমার রাতে চাঁদ দেখতে পেয়েছি। তিনি বললেন, জুমার রাতে তুমি কি স্বয়ং চাঁদ দেখতে পেয়েছ? আমি বললাম, লোকেরা দেখতে পেয়েছে এবং তারা রোজাও পালন করেছে, মুআবিয়া (রাঃ)-ও রোজা পালন করেছেন।ইবনু আব্বাস (রাঃ) বললেন, কিন্তু আমরা শনিবার (শুক্রবার দিবাগত) রাতে চাঁদ দেখেছি। অতএব ত্রিশ দিন পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অথবা চাঁদ না দেখা পর্যন্ত আমরা রোজা পালন করতে থাকব। আমি বললাম, মুআবিয়া (রাঃ)-এর চাঁদ দেখা ও তাঁর রোজা থাকা আপনার জন্য কি যথেষ্ট নয়? তিনি বলেন, না। আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। -

সহিহ, সহিহ আবু দাউদ (১০২১), মুসলিম।ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে প্রত্যেক অঞ্চলের লোকদের জন্য তাদের চাঁদ দেখাই ধর্তব্য হবে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৯৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কুরাইব (রহঃ)-এর শাম সফর এবং মদিনায় ফিরে আসার ঘটনা এসেছে। শামে লোকেরা জুমার রাতে রমজানের চাঁদ দেখে রোজা শুরু করেছিল। মুআবিয়া (রাঃ)-ও সেই অনুযায়ী রোজা রেখেছিলেন। পরে কুরাইব মদিনায় এসে জানালে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, মদিনায় তারা শনিবার রাতে চাঁদ দেখেছেন। তাই তারা নিজেদের দেখা অনুযায়ী রোজা চালিয়ে যাবেন, যতক্ষণ না নতুন চাঁদ দেখেন বা ত্রিশ দিন পূর্ণ করেন। কুরাইব শামের চাঁদ দেখা যথেষ্ট কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি না বলেন এবং এটিকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন। হাদিসটি ভিন্ন অঞ্চলে চাঁদ দেখার সময় আলাদা হতে পারে এবং একটি এলাকার মানুষ নিজেদের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে মাস পূর্ণ করতে পারে—এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ভিন্ন অঞ্চলে নতুন চাঁদ ভিন্ন রাতে দেখা যেতে পারে।
  • মদিনার মানুষ নিজেদের চাঁদ দেখা অনুযায়ী রোজা চালিয়ে গিয়েছিল।
  • চাঁদ না দেখা গেলে ত্রিশ দিন পূর্ণ করার নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল।
  • রোজার শুরু ও শেষ স্থানীয়ভাবে ঘোষিত সিদ্ধান্তের সঙ্গে পালন করা হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন