৫/২৩. অধ্যায়ঃ

যে লোকের জন্য যাকাতের মাল বৈধ নয়

ভিক্ষা কখন বৈধ এবং অপ্রয়োজনে চাওয়ার পরিণতি

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৫৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ مُجَالِدٍ، عَنْ عَامِرٍ الشَّعْبِيِّ، عَنْ حُبْشِيِّ بْنِ جُنَادَةَ السَّلُولِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهُوَ وَاقِفٌ بِعَرَفَةَ أَتَاهُ أَعْرَابِيٌّ فَأَخَذَ بِطَرَفِ رِدَائِهِ فَسَأَلَهُ إِيَّاهُ فَأَعْطَاهُ وَذَهَبَ فَعِنْدَ ذَلِكَ حَرُمَتِ الْمَسْأَلَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ الْمَسْأَلَةَ لاَ تَحِلُّ لِغَنِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ إِلاَّ لِذِي فَقْرٍ مُدْقِعٍ أَوْ غُرْمٍ مُفْظِعٍ وَمَنْ سَأَلَ النَّاسَ لِيُثْرِيَ بِهِ مَالَهُ كَانَ خُمُوشًا فِي وَجْهِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَرَضْفًا يَأْكُلُهُ مِنْ جَهَنَّمَ فَمَنْ شَاءَ فَلْيُقِلَّ وَمَنْ شَاءَ فَلْيُكْثِرْ ‏"‏ ‏.‏

হুবশী ইবনু জুনাদা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি বিদায় হজ্জের সময় বলতে শুনেছি। তিনি তখন আরাফার ময়দানে ছিলেন। এক বেদুঈন এসে তাঁর চাদরের পার্শ্ব ধরে তাঁর নিকটে কিছু চাইলো। তিনি তাকে কিছু দিলেন। লোকটি চলে গেল। এ সময়ই ভিক্ষাবৃত্তি নিষিদ্ধ করা হয়।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ ধনী লোকের জন্য এবং সুস্থ, সুগঠিত শরীরের অধিকারী সচল ব্যক্তির জন্য (অপরের নিকট) ভিক্ষা করা জায়েয নয়, তবে(১) সর্বনাশা অভাবে পড়েছে এমন ব্যক্তি এবং(২) অপমানকর ঋণে জর্জরিত ব্যক্তির জন্য জায়েয।যে ব্যক্তি নিজের সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে অপরের নিকটে ভিক্ষা চায়, কেয়ামতের দিন তার চেহারায় এর ক্ষতচিহ্ন হবে এবং সে জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর খাবে। অতএব যার ইচ্ছা হয় (ভিক্ষা) কম করুক আর যার ইচ্ছা হয় বেশি করুক।

যঈফ, ইরওয়া (৩/৩৮৪)

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৫৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়ার সীমা পরিষ্কার করা হয়েছে। বিদায় হজের সময় আরাফায় এক বেদুঈন নবী صلى الله عليه وسلم-এর চাদর ধরে কিছু চাইলে তিনি তাকে দেন। এরপর ঘোষণা করা হয়, ধনী এবং সুস্থ, শক্তিশালী ও সচল ব্যক্তির জন্য ভিক্ষা করা বৈধ নয়। তবে দুটি অবস্থার কথা আলাদাভাবে বলা হয়েছে—কেউ যদি সর্বনাশা অভাবে পড়ে অথবা এমন ভারী ও অপমানকর ঋণে জড়িয়ে যায় যা সামলানো কঠিন, তার জন্য সাহায্য চাওয়ার সুযোগ আছে। এরপর যারা প্রকৃত প্রয়োজনের জন্য নয়, বরং নিজের সম্পদ বাড়াতে মানুষের কাছে চায়, তাদের জন্য কেয়ামতের দিনের কঠিন সতর্কতা এসেছে। হাদিসের শেষ কথায় বোঝানো হয়েছে, মানুষ যত বেশি অপ্রয়োজনীয় ভিক্ষা করবে, তত বেশি নিজের জন্য পরিণতির বোঝা তৈরি করবে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ধনী ও কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য অকারণে ভিক্ষা করা বৈধ নয়।
  • সর্বনাশা অভাবে পড়া ব্যক্তি সাহায্য চাইতে পারে।
  • ভারী ও অপমানকর ঋণে জর্জরিত ব্যক্তির জন্যও অনুমতি রয়েছে।
  • সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ভিক্ষা করার বিরুদ্ধে কঠিন সতর্কতা এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন