৫/২৩. অধ্যায়ঃ
যে লোকের জন্য যাকাতের মাল বৈধ নয়
সচ্ছল ও সুস্থ-সবল ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণের বিধান
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬৫২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৫২
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيدٍ، ح وَحَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ رَيْحَانَ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لاَ تَحِلُّ الصَّدَقَةُ لِغَنِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَحُبْشِيِّ بْنِ جُنَادَةَ وَقَبِيصَةَ بْنِ مُخَارِقٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رَوَى شُعْبَةُ عَنْ سَعْدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ هَذَا الْحَدِيثَ بِهَذَا الإِسْنَادِ وَلَمْ يَرْفَعْهُ . وَقَدْ رُوِيَ فِي غَيْرِ هَذَا الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَحِلُّ الْمَسْأَلَةُ لِغَنِيٍّ وَلاَ لِذِي مِرَّةٍ سَوِيٍّ " . وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ قَوِيًّا مُحْتَاجًا وَلَمْ يَكُنْ عِنْدَهُ شَيْءٌ فَتُصُدِّقَ عَلَيْهِ أَجْزَأَ عَنِ الْمُتَصَدِّقِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَوَجْهُ هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى الْمَسْأَلَةِ .
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন: অবস্থাপন্ন সচ্ছল ও সুস্থ-সবল লোকের জন্য যাকাত নেওয়া বৈধ নয়।
-সহীহ, মিশকাত (১৪৪৪), ইরওয়া (৮৭৭)।আবূ হুরাইরা, হুবশী ইবনু জুনাদা ও কাবীসা ইবনু মুখারিক (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি শুবাও সা’দ ইবনু ইবরাহীম হতে উল্লেখিত সনদে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ হাদীসকে তিনি মারফূহিসেবে বর্ণনা করেননি। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “অবস্থাপন্ন সচ্ছল লোক এবং শক্তিমান ও সুস্থ দেহের অধিকারী লোকের পক্ষে অন্য কারো নিকটে হাত পাতা জায়িয নয়।” এ প্রসঙ্গে আলিমগণের অভিমত এটাই যে, যদি শক্তিমান সুঠাম দেহের অধিকারী লোক সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয় এবং যদি তার নূন্যতম প্রয়োজন মেটানোর মত সম্বল না থাকে তবে সে লোককে যাকাত প্রদান করলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। কিছু মনীষীর মতে, ভিক্ষাবৃত্তি প্রসঙ্গে এ হাদীসটি বলা হয়েছে (যাকাত গ্রহণ জায়িয হওয়া বা না হওয়া প্রসঙ্গে নয়) ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কার জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ নয়, তা সংক্ষেপে বলা হয়েছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, ধনী ব্যক্তির জন্য এবং সুস্থ-সবল ও কর্মক্ষম ব্যক্তির জন্য যাকাত গ্রহণ বৈধ নয়। এখানে উদ্দেশ্য হলো, যার নিজের যথেষ্ট সম্পদ আছে বা কাজ করে জীবিকা অর্জনের বাস্তব ক্ষমতা আছে, সে যেন দরিদ্রদের জন্য নির্ধারিত সহায়তা গ্রহণ না করে। তবে হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কেউ শারীরিকভাবে শক্তিশালী হলেও যদি বাস্তবে অভাবী হয় এবং তার কাছে কিছু না থাকে, তাকে দান করলে দাতার দান আদায় হয়ে যাবে। কিছু আলেম হাদিসের নিষেধকে মূলত মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলেছেন। তাই শুধু শরীরের শক্তি দেখে কাউকে সচ্ছল ধরে নেওয়া ঠিক নয়। সম্পদ, বাস্তব অভাব ও উপার্জনের অবস্থা—সবকিছু বিবেচনা করতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সচ্ছল ব্যক্তির জন্য দরিদ্রদের যাকাত গ্রহণ বৈধ নয়।
- উপার্জনে সক্ষম ব্যক্তিকে অকারণে যাকাত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- শারীরিকভাবে শক্তিশালী হলেও বাস্তবে নিঃস্ব ব্যক্তি সহায়তা পেতে পারে।
- যাকাত দেওয়ার আগে প্রাপকের বাস্তব আর্থিক অবস্থা দেখা দরকার।
