৫/১৫. অধ্যায়ঃ
ইয়াতীমের সম্পদের যাকাত
ইয়াতিমের সম্পদ রক্ষা ও যাকাত ব্যবস্থাপনার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬৪১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬৪১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنِ الْمُثَنَّى بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ " أَلاَ مَنْ وَلِيَ يَتِيمًا لَهُ مَالٌ فَلْيَتَّجِرْ فِيهِ وَلاَ يَتْرُكْهُ حَتَّى تَأْكُلَهُ الصَّدَقَةُ " . قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَفِي إِسْنَادِهِ مَقَالٌ لأَنَّ الْمُثَنَّى بْنَ الصَّبَّاحِ يُضَعَّفُ فِي الْحَدِيثِ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ . فَذَكَرَ هَذَا الْحَدِيثَ . وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي هَذَا الْبَابِ فَرَأَى غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي مَالِ الْيَتِيمِ زَكَاةً . مِنْهُمْ عُمَرُ وَعَلِيٌّ وَعَائِشَةُ وَابْنُ عُمَرَ وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ لَيْسَ فِي مَالِ الْيَتِيمِ زَكَاةٌ . وَبِهِ يَقُولُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ . وَعَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ هُوَ ابْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَشُعَيْبٌ قَدْ سَمِعَ مِنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو . وَقَدْ تَكَلَّمَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فِي حَدِيثِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ وَقَالَ هُوَ عِنْدَنَا وَاهٍ . وَمَنْ ضَعَّفَهُ فَإِنَّمَا ضَعَّفَهُ مِنْ قِبَلِ أَنَّهُ يُحَدِّثُ مِنْ صَحِيفَةِ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَأَمَّا أَكْثَرُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فَيَحْتَجُّونَ بِحَدِيثِ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ وَيُثْبِتُونَهُ مِنْهُمْ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ وَغَيْرُهُمَا .
আমর ইবনু শুআইব (রহঃ) হতে পালাক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) জনতার উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিলেন। তিনি বললেনঃ “শোনো! যে লোক কোনো সম্পদশালী ইয়াতিমের তত্ত্বাবধায়ক হয়েছে, সে যেন তা ব্যবসায় খাটায় এবং ফেলে না রাখে। তা না হলে যাকাতে সেগুলো নিঃশেষ হয়ে যাবে।”
যইফ, ইরওয়া (৭৮৮)আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি শুধু উল্লেখিত সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু এর সনদ সম্পর্কে সমালোচনা আছে। কেননা মুসান্না ইবনুস সাব্বাহকে হাদীস শাস্ত্রে যঈফ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেহ কেহ হাদীসটি আমর ইবনু শুয়াইব হতে এই ভাবে বর্ণনা করেছেন যে, উমার ইবনুল খাত্তাব ভাষণ দিলেন পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। ইয়াতীমের মালে যাকাত নির্ধারিত হবে কি না এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতের অমিল আছে। কিছু সাহাবী, যেমন উমার, আলী, আইশা ও ইবনু উমার (রহঃ) ইয়াতীমের মালে যাকাত নির্ধারিত হবে বলে মত দিয়েছেন। ইমাম মালিক শাফিঈ আহমাদ ও ইসহাকের মত এটাই। অপর একদল বিদ্বান বলেছেন, ইয়াতীমের সম্পদে যাকাত নির্ধারিত হবে না। সুফিয়ান সাওরী ও আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাকের এই মত। রাবী আমর ইবনু শুআইব- মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আসের ছেলে। তিনি তাঁর দাদা আবদুল্লাহ ইবনু আমরের নিকট হাদীস শুনেছেন। কিন্তু ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ (রহঃ) আমর ইবনু শুআইবের হাদীসের সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, তার হাদীস আমাদের মতে যঈফ। যারাই তাকে যঈফ বলেছেন- তার কারণ উল্লেখ করেছেন, তিনি তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনু আমরের খসড়া হতে হাদীস বর্ণনা করেন। অপরদিকে বেশীরভাগ হাদীস বিশারদ তাঁর বর্ণিত হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন এবং একে প্রামাণ্য বলে গণ্য করেছেন। এঁদের মধ্যে আছেন ইমাম আহমাদ, ইসহাক ও অন্যান্যরা।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সম্পদশালী ইয়াতিমের অর্থ পরিচালনার বিষয়ে তার অভিভাবককে সতর্ক করা হয়েছে। নবী صلى الله عليه وسلم বলেছেন, ইয়াতিমের তত্ত্বাবধায়ক যেন তার সম্পদ অলসভাবে ফেলে না রাখে; বরং তা ব্যবসায় খাটায়। কারণ সম্পদ থেকে নিয়মিত যাকাত দেওয়া হলে এবং কোনো আয় না হলে মূল অর্থ ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। তাই মূল শিক্ষা হলো, ইয়াতিমের সম্পদ ব্যক্তিগত লাভের জিনিস নয়; এটি একটি আমানত। তত্ত্বাবধায়কের কাজ হলো সততা, সতর্কতা ও দায়িত্বের সঙ্গে তা সংরক্ষণ করা। হাদিসের পরের অংশে ইয়াতিমের সম্পদে যাকাত নিয়ে আলেমদের মতভেদের কথাও এসেছে। একই সঙ্গে বর্ণনাটির সনদ নিয়ে আলোচনা রয়েছে। ফলে হাদিসটি পড়ার সময় সম্পদ রক্ষার নির্দেশ এবং সনদসংক্রান্ত মন্তব্য—দুটি বিষয়ই খেয়াল রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইয়াতিমের সম্পদকে ব্যক্তিগত সম্পদ মনে না করে আমানত হিসেবে রক্ষা করতে হবে।
- সম্পদ ফেলে না রেখে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল উপায়ে কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- ইয়াতিমের সম্পদে যাকাতের বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
- হাদিসের সনদ সম্পর্কে বর্ণনাকারীর দেওয়া মন্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
