৪/৬৯. অধ্যায়ঃ
নফল নামাজরত অবস্থায় হাঁটা এবং কোন কাজ করা
নামাজে প্রয়োজনীয় নড়াচড়া: দরজা খোলার নববী আমল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৬০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৬০১
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ بُرْدِ بْنِ سِنَانٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جِئْتُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي فِي الْبَيْتِ وَالْبَابُ عَلَيْهِ مُغْلَقٌ فَمَشَى حَتَّى فَتَحَ لِي ثُمَّ رَجَعَ إِلَى مَكَانِهِ . وَوَصَفَتِ الْبَابَ فِي الْقِبْلَةِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ .
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি (যখন) আসলাম রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (তখন) নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় ভেতর হতে ঘরের দরজা আটকানো ছিল। তিনি (নামাজরত অবস্থায়) হেঁটে এসে আমার জন্য দরজা খুলে দিলেন। তারপর তিনি নিজের জায়গায় ফিরে আসলেন। দরজাটি কেবলার দিকে ছিল।
-হাসান। সহীহ্ আবূ দাঊদ- (৮৫৫), মিশকাত- (১০০৫), আল-ইরওয়া- (৩৮৬)।আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৬০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) জানান, তিনি ঘরে এসে দেখলেন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নামাজ পড়ছেন এবং দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। তিনি নামাজের মধ্যেই হেঁটে দরজার কাছে গেলেন, আয়িশা (রাঃ)-এর জন্য দরজা খুললেন, তারপর আবার নিজের নামাজের জায়গায় ফিরে এলেন। দরজাটি কেবলার দিকে ছিল—এই কথাটিও বর্ণনায় পরিষ্কারভাবে এসেছে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, নামাজে একেবারে স্থির থাকার চেষ্টা করা হলেও বাস্তব প্রয়োজন দেখা দিলে সীমিত ও দরকারি নড়াচড়া করা যেতে পারে। এখানে কাজটি ছিল দরজা খোলা, এবং তিনি কাজ শেষ করে নামাজের জায়গায় ফিরে যান। তাই নামাজে দরজা খোলা বা প্রয়োজনীয় অল্প হাঁটার বিষয়টি বুঝতে এই বর্ণনা সরাসরি দিকনির্দেশ দেয়। তবে হাদিসে অকারণ বা বারবার নড়াচড়ার কথা বলা হয়নি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজ চলাকালে বাস্তব প্রয়োজন হলে অল্প নড়াচড়া করা যেতে পারে।
- দরজা খুলে দেওয়ার পর নিজের নামাজের স্থানে ফিরে আসা নববী আমলে দেখা যায়।
- হাদিসে দরজার অবস্থান কেবলার দিকে ছিল বলে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
- এই বর্ণনা অকারণ নড়াচড়ার অনুমতি নয়; ঘটনাটি ছিল প্রয়োজনভিত্তিক।
