৪/৪৩. অধ্যায়ঃ
বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ (সালাতুল ইসতিসকা)
ইস্তিস্কার নামাজ: বৃষ্টির জন্য দুই রাকাত ও দোয়া
জামে তিরমিযী : ৫৫৬
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫৫৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم خَرَجَ بِالنَّاسِ يَسْتَسْقِي فَصَلَّى بِهِمْ رَكْعَتَيْنِ جَهَرَ بِالْقِرَاءَةِ فِيهِمَا وَحَوَّلَ رِدَاءَهُ وَرَفَعَ يَدَيْهِ وَاسْتَسْقَى وَاسْتَقْبَلَ الْقِبْلَةَ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ وَآبِي اللَّحْمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَلَى هَذَا الْعَمَلُ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَعَمُّ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدِ بْنِ عَاصِمٍ الْمَازِنِيُّ .
আব্বাদ ইবনু তামীম (রাঃ) হতে তাঁর চাচা হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) লোকদের নিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য বের হলেন। তাদেরকে নিয়ে তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। এতে তিনি সশব্দে কিরাত পাঠ করলেন। তিনি তাঁর চাদর উল্টে দিলেন, দুই হাত উপরে তুললেন এবং কেবলামুখী হয়ে দোয়া করলেন।
-সহীহ্। ইবনু মাজাহ- (১২৬৭), বুখারী ও মুসলিম।এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘আব্বাস, আবূ হুরাইরা, আনাস ও আবুল লাহাম (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ‘আব্দুল্লাহ ইবনু যাইদের হাদীসটি হাসান সহীহ্। ‘আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ এবং ইসহাকও একই রকম মত দিয়েছেন। আব্বাদ ইবনু তামীমের চাচার নাম ‘আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ ইবনু ‘আসিম আল-মাযিনী (রাঃ)।
জামে তিরমিযী হাদিস ৫৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বৃষ্টির জন্য নামাজ ও দোয়ার একটি পূর্ণ দৃশ্য বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم লোকদের নিয়ে বৃষ্টি প্রার্থনার জন্য বের হন। তিনি তাঁদের নিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়েন এবং তাতে সশব্দে কিরাত পাঠ করেন। এরপর নিজের চাদর উল্টে দেন, দুই হাত উপরে তোলেন, কিবলামুখী হন এবং বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন। তাই “ইস্তিস্কার নামাজ” বা “বৃষ্টির জন্য নামাজ” এই হাদিসের মূল বিষয়। এখানে কয়েকটি কাজ একসঙ্গে এসেছে: জামাতে বের হওয়া, দুই রাকাত পড়া, জোরে কিরাত, চাদর ঘোরানো, হাত তোলা এবং কিবলার দিকে মুখ করে দোয়া। বর্ণনায় নির্দিষ্ট দোয়ার শব্দ দেওয়া হয়নি। তাই কোনো নির্দিষ্ট বাক্যকে এই হাদিসের আবশ্যিক দোয়া বলা ঠিক হবে না। প্রদত্ত আমলগুলোই সহজভাবে তুলে ধরা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বৃষ্টির জন্য লোকদের নিয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়া হয়েছে।
- নামাজে সশব্দে কিরাত পাঠ করা হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم চাদর উল্টে, হাত তুলে ও কিবলামুখী হয়ে দোয়া করেছেন।
