৪/৪০. অধ্যায়ঃ
কত দিন পর্যন্ত কসর করা যাবে?
উনিশ দিন পর্যন্ত সফরে কসর নামাজের বর্ণনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৫৪৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫৪৯
حَدَّثَنَا هَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ عَاصِمٍ الأَحْوَلِ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سَافَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سَفَرًا فَصَلَّى تِسْعَةَ عَشَرَ يَوْمًا رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنٍ . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَنَحْنُ نُصَلِّي فِيمَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ تِسْعَ عَشْرَةَ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فَإِذَا أَقَمْنَا أَكْثَرَ مِنْ ذَلِكَ صَلَّيْنَا أَرْبَعًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক সফরে গিয়ে উনিশ দিন থাকলেন। এ কয়দিন তিনি দুই রাকাত দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করলেন (চার রাকাত ফরজের পরিবর্তে)। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমরাও আমাদের (মদীনার ও মক্কার) মধ্যেকার উনিশ দিনের পথে দুই রাকাত দুই রাকাত করে নামাজ আদায় করে থাকি। যখন এর চেয়ে বেশি দিন থাকি তখন চার রাকাতই আদায় করে থাকি।
-সহীহ্। ইবনু মাজাহ- (১০৭৫), বুখারী।আবূ ‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর একটি সফরের সময়কাল ও নামাজের ধরন একসঙ্গে বলা হয়েছে। তিনি উনিশ দিন অবস্থান করে চার রাকাতের নামাজ দুই রাকাত করে আদায় করেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, তাঁরাও উনিশ দিন পর্যন্ত থাকলে দুই রাকাত পড়তেন এবং এর চেয়ে বেশি দিন থাকলে চার রাকাত পড়তেন। তাই “উনিশ দিন সফরে কসর নামাজ” এই বর্ণনার মূল বিষয়। এখানে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর আমল এবং ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বোঝাপড়া—দুটি অংশ আলাদা করে দেখা জরুরি। হাদিসটি সব ধরনের সফর ও অবস্থানের সব শর্ত ব্যাখ্যা করেনি। ফলে অতিরিক্ত শর্ত যোগ না করে বলা যায়, উল্লিখিত সফরে উনিশ দিন কসর করা হয়েছে এবং ইবনু আব্বাস (রাঃ) নিজের আমলের সীমা হিসেবেও উনিশ দিনের কথা বলেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূল صلى الله عليه وسلم এক সফরে উনিশ দিন দুই রাকাত করে পড়েছেন।
- ইবনু আব্বাস (রাঃ) উনিশ দিন পর্যন্ত কসর করার কথা বলেছেন।
- উনিশ দিনের বেশি হলে তিনি চার রাকাত পড়ার কথা উল্লেখ করেছেন।
