৪/১৭. অধ্যায়ঃ
জুমার দিন লোকদের ডিঙ্গিয়ে সামনে যাওয়া মাকরূহ
জুমায় ঘাড় টপকানো: মুসল্লিকে কষ্ট দেওয়ার কঠোর সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৫১৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫১৩
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ زَبَّانَ بْنِ فَائِدٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الْجُهَنِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ تَخَطَّى رِقَابَ النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ اتَّخَذَ جِسْرًا إِلَى جَهَنَّمَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ سَهْلِ بْنِ مُعَاذِ بْنِ أَنَسٍ الْجُهَنِيِّ حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ رِشْدِينَ بْنِ سَعْدٍ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ كَرِهُوا أَنْ يَتَخَطَّى الرَّجُلُ رِقَابَ النَّاسِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَشَدَّدُوا فِي ذَلِكَ . وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ فِي رِشْدِينَ بْنِ سَعْدٍ وَضَعَّفَهُ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .
সাহাল ইবনু মুআয ইবনু আনাস (রাঃ) হতে তাঁর পিতা হতে বর্ণিতঃ
তিনি (মুয়ায রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জুমার দিন (নামাজের সময়) যে ব্যক্তি লোকের ঘাড় টপকিয়ে (কাতার ভেদ করে) সামনে যাবার চেষ্টা করল সে যেন (এই কাজটিকে) জাহান্নামের পুল (সাঁকো) বানাল।
যঈফ, ইবনু মাজাহ (১১১৬)।এ অনুচ্ছেদে জাবির (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব। কেবল রিশদীন ইবনু সা’দের সূত্রেই আমরা এ হাদীস জানতে পেরেছি। বিশেষজ্ঞগণ এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে লোকদের ঘাড় টপকিয়ে কোন ব্যক্তির সামনে যাওয়া মাকরূহ বলেছেন এবং কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। এ হাদীসের রাবী রিশদীন ইবনু সা’দকে কিছু হাদীস বিশারদ স্মরণশক্তির দিক হতে দুর্বল বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৫১৩-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: কাতারের আদব। বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নামে বলা হয়েছে, জুমার দিন মানুষের ঘাড় টপকে সামনে যাওয়া যেন জাহান্নামের দিকে একটি সাঁকো বানানোর মতো। এতে কাতারে বসা মুসল্লিদের কষ্ট দিয়ে সামনে যাওয়ার বিরুদ্ধে খুব কঠোর ভাষা এসেছে। তবে একই আরবি পাঠে ইমাম তিরমিযী হাদিসটিকে গরিব বলেছেন এবং এর বর্ণনাকারী রিশদীন ইবন সাদের স্মরণশক্তি নিয়ে আলেমদের আপত্তি ও দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছেন। তাই সতর্কতামূলক বক্তব্যটি উদ্ধৃত করার সময় সনদের অবস্থাও জানানো দরকার। একই পাঠে বলা হয়েছে, আলেমরা জুমার দিনে মানুষের ঘাড় টপকানো অপছন্দ করতেন এবং এ বিষয়ে কঠোর ছিলেন। সরাসরি শিক্ষা হলো মানুষের ওপর দিয়ে বা তাদের ঘাড় টপকে কাতার ভেদ করে সামনে না যাওয়া। এতে বর্ণনার সতর্কতা মানা হয় এবং সনদগত অবস্থাও গোপন করা হয় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার কাতারে মানুষের ঘাড় টপকে সামনে যাওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা এসেছে।
- এই নির্দিষ্ট বর্ণনার সনদে দুর্বলতার কথা ইমাম তিরমিযী উল্লেখ করেছেন।
- আলেমরা এ আচরণ অপছন্দ করেছেন এবং মুসল্লিকে কষ্ট দেওয়াকে গুরুতরভাবে দেখেছেন।
- জুমার কাতারে মানুষের ঘাড় টপকে সামনে যাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
