৪/১৫. অধ্যায়ঃ
ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় কোনো ব্যক্তি আসলে তাঁর দুই রাকাত নামাজ আদায় করা প্রসঙ্গে
খুতবার সময় দুই রাকাত: আবু সাঈদ (রাঃ)-এর অনুসরণ
জামে তিরমিযী : ৫১১
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ৫১১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عِيَاضِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَرْحٍ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، دَخَلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَمَرْوَانُ يَخْطُبُ فَقَامَ يُصَلِّي فَجَاءَ الْحَرَسُ لِيُجْلِسُوهُ فَأَبَى حَتَّى صَلَّى فَلَمَّا انْصَرَفَ أَتَيْنَاهُ فَقُلْنَا رَحِمَكَ اللَّهُ إِنْ كَادُوا لَيَقَعُوا بِكَ . فَقَالَ مَا كُنْتُ لأَتْرُكَهُمَا بَعْدَ شَيْءٍ رَأَيْتُهُ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . ثُمَّ ذَكَرَ أَنَّ رَجُلاً جَاءَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فِي هَيْئَةٍ بَذَّةٍ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَأَمَرَهُ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ . قَالَ ابْنُ أَبِي عُمَرَ كَانَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ إِذَا جَاءَ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ وَكَانَ يَأْمُرُ بِهِ وَكَانَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمُقْرِئُ يَرَاهُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَسَمِعْتُ ابْنَ أَبِي عُمَرَ يَقُولُ قَالَ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ كَانَ مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ ثِقَةً مَأْمُونًا فِي الْحَدِيثِ . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَسَهْلِ بْنِ سَعْدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ . وَبِهِ يَقُولُ الشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا دَخَلَ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَإِنَّهُ يَجْلِسُ وَلاَ يُصَلِّي . وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ . وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ . حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا الْعَلاَءُ بْنُ خَالِدٍ الْقُرَشِيُّ قَالَ رَأَيْتُ الْحَسَنَ الْبَصْرِيَّ دَخَلَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ وَالإِمَامُ يَخْطُبُ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ . إِنَّمَا فَعَلَ الْحَسَنُ اتِّبَاعًا لِلْحَدِيثِ وَهُوَ رَوَى عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْحَدِيثَ .
আবদুল্লাহ ইবনু আবূ সারহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাঃ) জুমু’আর দিন (মসজিদে) ঢুকলেন। মারওয়ান তখন খুতবা দিচ্ছিল। তিনি নামাজ আদায় করতে দাঁড়ালেন। মারওয়ানের চৌকিদার তাঁকে বসিয়ে দেওয়ার (নামাজ হতে বিরত রাখার) জন্য আসল। কিন্তু তিনি তা মানলেন না এবং নামাজ আদায় করলেন। তিনি অবসর হলে আমরা তাঁর নিকট আসলাম। আমরা বললাম, আল্লাহ (ﷻ) আপনার উপর দয়া করুন, তারা আপনাকে পরাজিত করার জন্য এসেছিল। তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এটা করতে দেখেছি। এরপর আমি এ দুই রাকাত কখনও ছাড়তে পারি না। তারপর তিনি উল্লেখ করলেন, জুমু’আর দিন এক ব্যক্তি তাড়াহুড়া করে উস্কখুস্ক অবস্থায় মসজিদে আসল। নবী (ﷺ) তখন জুমু’আর খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি তাকে নির্দেশ দিলে সে দুই রাকাত নামাজ আদায় করল। আর নবী (ﷺ) খুতবা দিতে থাকলেন।
-হাসান সহীহ্। ইবনু মাজাহ- (১১১৩)।আবূ ‘ঈসা বলেনঃ হাদীসটি হাসান সহীহ্। এ হাদীসের এক রাবী ইবনু আবী ‘উমার বলেন, ইবনু উআইনা মসজিদে এসে দুই রাক’আত নামায আদায় করতেন; ইমাম তখন খুতবা দিতে থাকতেন। তিনি এটা আদায় করার নির্দেশও দিতেন। আবূ আবদুর রহমান আল-মাকবুরীও তাঁকে এরকম করতে দেখেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু ‘আজলান একজন সিকাহ রাবী এবং হাদীসশাস্ত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরা, জাবির এবং সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেছেন। ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক একই রকম মত দিয়েছেন। অপর একদল বিদ্বান বলেছেন, ইমাম যখন খুতবা দিতে থাকেন তখন কোন লোক আসলে সে বসে যাবে এবং নামায আদায় করবে না। সুফিয়ান সাওরী ও কুফাবাসীগণ এই মত পালন করেন। কিন্তু প্রথম মতই বেশি সহীহ্।‘আলা ইবনু খালিদ আল-কুরাশী (রহঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি হাসান আল-বাসরীকে জুমু’আর দিন মসজিদে ঢুকতে দেখলাম, ইমাম তখন খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি দুই রাক’আত নামায আদায় করলেন, তারপর বসলেন। হাদীসের অনুসরণ করার জন্যই হাসান এরকমটি করলেন। তিনি এ সম্পর্কিত হাদীস জাবির (রাঃ) -এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হতে বর্ণনা করেছেন।
জামে তিরমিযী হাদিস ৫১১-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: দুই রাকাত। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাঃ) জুমার দিনে মসজিদে ঢোকার সময় মারওয়ান খুতবা দিচ্ছিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে নামাজ শুরু করলে প্রহরীরা তাকে বসাতে চেয়েছিল, কিন্তু তিনি নামাজ শেষ করেন। পরে তিনি কারণ জানান: রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে একটি ঘটনায় খুতবার সময় আগত এক ব্যক্তিকে দুই রাকাত নামাজ পড়তে নির্দেশ দিতে দেখার পর তিনি এ দুই রাকাত ছাড়তে পারেননি। সেই ব্যক্তি তাড়াহুড়ো করে অগোছালো অবস্থায় এসেছিল এবং নবী (صلى الله عليه وسلم) খুতবা দিতে দিতেই তাকে নামাজ পড়তে বলেন। আরবি পাঠের শেষে এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদও আছে: কেউ নামাজ পড়ার পক্ষে, কেউ সরাসরি বসার পক্ষে মত দিয়েছেন; ইমাম তিরমিযী প্রথম মতকে বেশি সঠিক বলেছেন। তাই হাদিসটি ঘটনা, সাহাবির আমল এবং মতভেদ—তিনটিই তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আবু সাঈদ (রাঃ) খুতবার সময় মসজিদে ঢুকে দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন।
- তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রত্যক্ষ নির্দেশ দেখার কারণে এ আমল ধরে রেখেছিলেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) খুতবা চালু রেখেই আগত ব্যক্তিকে দুই রাকাত পড়তে বলেন।
- এ বিষয়ে আলেমদের মতভেদ বর্ণনার শেষ অংশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে।
