৩/২. অধ্যায়ঃ
বিতরের নামায ফরজ নয়
বিতর নামাজ সুন্নত: আল্লাহ বিতর এবং বিতরকে ভালোবাসেন
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৪৫৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৪৫৩
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ ضَمْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ الْوِتْرُ لَيْسَ بِحَتْمٍ كَصَلاَتِكُمُ الْمَكْتُوبَةِ وَلَكِنْ سَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ وِتْرٌ يُحِبُّ الْوِتْرَ فَأَوْتِرُوا يَا أَهْلَ الْقُرْآنِ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ وَابْنِ مَسْعُودٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَلِيٍّ حَدِيثٌ حَسَنٌ .
‘আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিতরের নামাজ তোমাদের ফরজ নামাজসমূহের মত অত্যাবশ্যকীয় (ফরজ) নামাজ নয়। বরং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (এ নামাজ) তোমাদের জন্য সুন্নতরূপে প্রবর্তন করেছেন। তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) বলেছেন: আল্লাহ তাআলা বিতর (বেজোড়), তিনি বিতরকে ভালবাসেন। হে কুরআনের বাহকগণ (মুমিনগণ)! তোমরা বিতর আদায় কর।
-সহীহ। ইবনু মাজাহ- (১১৬৯)।এ অনুচ্ছেদে ইবনু ‘উমার, ইবনু মাসঊদ ও ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ আলী (রাঃ) -এর হাদীসটি হাসান।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৪৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ) বলেছেন, বিতরের নামাজ ফরজ নামাজসমূহের মতো বাধ্যতামূলক নয়। বরং রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এটিকে সুন্নত হিসেবে প্রবর্তন করেছেন। এরপর বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তা’আলা বিতর, তিনি বিতরকে ভালোবাসেন; তাই হে কুরআনের বাহকগণ, তোমরা বিতর আদায় কর। কোর টপিক হলো বিতর সুন্নত। এই হাদিসে দুটি বিষয় পরিষ্কার: একদিকে বিতরকে ফরজ নামাজের মতো বলা হয়নি, অন্যদিকে এর প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাই ব্যাখ্যায় ভারসাম্য রাখা জরুরি। “বিতর একেবারে গুরুত্বহীন” বলা যাবে না, আবার “ফরজের মতো” বলা যাবে না—কারণ টেক্সটে তা নেই। যারা “বিতর নামাজ ফরজ না সুন্নত” খুঁজেন, এই হাদিস তাদের জন্য খুব সরাসরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিতর ফরজ নামাজের মতো বাধ্যতামূলক নয় বলা হয়েছে।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বিতরকে সুন্নত করেছেন।
- হাদিসে বিতর আদায়ের প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
