৪৬/৬৪. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্ত্রীগণের মর্যাদা
পরিষ্কার মন: সাহাবীদের খারাপ কথা না পৌঁছানোর শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৮৯৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৮৯৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ إِسْرَائِيلَ، عَنِ الْوَلِيدِ، عَنْ زَيْدِ بْنِ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ يُبَلِّغُنِي أَحَدٌ عَنْ أَحَدٍ مِنْ أَصْحَابِي شَيْئًا فَإِنِّي أُحِبُّ أَنْ أَخْرُجَ إِلَيْهِمْ وَأَنَا سَلِيمُ الصَّدْرِ " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمَالٍ فَقَسَمَهُ فَانْتَهَيْتُ إِلَى رَجُلَيْنِ جَالِسَيْنِ وَهُمَا يَقُولاَنِ وَاللَّهِ مَا أَرَادَ مُحَمَّدٌ بِقِسْمَتِهِ الَّتِي قَسَمَهَا وَجْهَ اللَّهِ وَلاَ الدَّارَ الآخِرَةَ . فَتَثَبَّتُّ حِينَ سَمِعْتُهُمَا فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَأَخْبَرْتُهُ فَاحْمَرَّ وَجْهُهُ وَقَالَ " دَعْنِي عَنْكَ فَقَدْ أُوذِيَ مُوسَى بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا فَصَبَرَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ زِيدَ فِي هَذَا الإِسْنَادِ رَجُلٌ .
আবদুল্লাহ ইবনু মাস্উদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমার সাহাবীদের কেউ যেন তাঁদের অপরজনের কোন খারাপ কথা আমার নিকট না পৌঁছায়। যেহেতু আমি তাঁদের সাথে পরিষ্কার ও উদার মন নিয়েই দেখা করতে ভালবাসি।আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে কিছু সম্পদ আসলে তিনি (জনতার মধ্যে) তা বিতরণ করেন। আমি একই সাথে বসে থাকা দুই ব্যক্তির নিকট গেলাম, তারা বলছিল, আল্লাহর শপথ! মুহাম্মাদ (ﷺ) এই যে বিলি-বণ্টন করলেন তা আল্লাহর তুষ্টি লাভের ইচ্ছাই তাঁর ছিল না এবং পরকালের বাসস্থান (জান্নাত) অর্জনেরও নয়।কথাটি শুনে আমি মনে রাখলাম এবং ফিরে এসে তাঁকে জানালাম। এতে তাঁর মুখমণ্ডল রক্তিম বর্ণ ধারণ করলো এবং তিনি বললেনঃ তুমি আমাকে ছেড়ে দাও। মূসা (আঃ)-কে এর চেয়েও বেশি যন্ত্রণা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি ধৈর্য ধরেছেন।
আবূ ঈসা বলেনঃ উপরোক্ত সুত্রে এ হাদীসটি গারীব। এর সনদে এক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাঁর সাহাবীদের কেউ যেন অন্য কারও খারাপ কথা তাঁর কাছে না পৌঁছায়। কারণ তিনি তাঁদের সঙ্গে পরিষ্কার ও উদার মন নিয়ে দেখা করতে ভালোবাসেন। এরপর আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) একটি ঘটনার কথা বলেন। কিছু সম্পদ বণ্টনের পর দুই ব্যক্তি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নিয়ত নিয়ে ভুল কথা বলেছিল। তিনি তা নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানালে তাঁর মুখমণ্ডল বদলে যায়। তারপর তিনি মূসা (আঃ)-এর কষ্ট সহ্য করার কথা বলেন। এই হাদিসে পরিষ্কার মন, অন্যের কথা বয়ে না নেওয়া, কষ্টদায়ক মন্তব্যের ক্ষতি, এবং ধৈর্যের শিক্ষা আছে। এটি আমাদের কথাবার্তায় সতর্ক হতে শেখায়। তাই শোনা কথা ছড়ানোর আগে তার ক্ষতি, সত্যতা এবং প্রভাব নিয়ে ভাবা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের খারাপ কথা অকারণে অন্যের কাছে পৌঁছানো সম্পর্ক নষ্ট করতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের সঙ্গে পরিষ্কার মন নিয়ে দেখা করতে চাইতেন।
- কষ্টদায়ক কথা শুনলেও ধৈর্যের উদাহরণ নবীদের জীবনে আছে।
