৪৬/৬১. অধ্যায়ঃ

মুহাম্মদ (ﷺ)-এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর মর্যাদা

ফাতিমা (রাঃ)-এর আদব: পিতা-কন্যার ভালোবাসার হাদিস

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৮৭২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ عُمَرَ، أَخْبَرَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ مَيْسَرَةَ بْنِ حَبِيبٍ، عَنِ الْمِنْهَالِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ طَلْحَةَ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَشْبَهَ سَمْتًا وَدَلاًّ وَهَدْيًا بِرَسُولِ اللَّهِ فِي قِيَامِهَا وَقُعُودِهَا مِنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ قَالَتْ وَكَانَتْ إِذَا دَخَلَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَامَ إِلَيْهَا فَقَبَّلَهَا وَأَجْلَسَهَا فِي مَجْلِسِهِ وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا دَخَلَ عَلَيْهَا قَامَتْ مِنْ مَجْلِسِهَا فَقَبَّلَتْهُ وَأَجْلَسَتْهُ فِي مَجْلِسِهَا فَلَمَّا مَرِضَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم دَخَلَتْ فَاطِمَةُ فَأَكَبَّتْ عَلَيْهِ فَقَبَّلَتْهُ ثُمَّ رَفَعَتْ رَأْسَهَا فَبَكَتْ ثُمَّ أَكَبَّتْ عَلَيْهِ ثُمَّ رَفَعَتْ رَأْسَهَا فَضَحِكَتْ فَقُلْتُ إِنْ كُنْتُ لأَظُنُّ أَنَّ هَذِهِ مِنْ أَعْقَلِ نِسَائِنَا فَإِذَا هِيَ مِنَ النِّسَاءِ فَلَمَّا تُوُفِّيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قُلْتُ لَهَا أَرَأَيْتِ حِيْنَ أَكْبَبْتِ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرَفَعْتِ رَأْسَكِ فَبَكَيْتِ ثُمَّ أَكْبَبْتِ عَلَيْهِ فَرَفَعْتِ رَأْسَكِ فَضَحِكْتِ مَا حَمَلَكِ عَلَى ذَلِكَ قَالَتْ إِنِّي إِذًا لَبَذِرَةٌ أَخْبَرَنِي أَنَّهُ مَيِّتٌ مِنْ وَجَعِهِ هَذَا فَبَكَيْتُ ثُمَّ أَخْبَرَنِي أَنِّي أَسْرَعُ أَهْلِهِ لُحُوقًا بِهِ فَذَاكَ حِينَ ضَحِكْتُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ عَائِشَةَ ‏.‏

উম্মুল মু'মিনীন 'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উঠা-বসা, আচার-অভ্যাস ও চালচলনের সাথে তাঁর কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-এর অপেক্ষা বেশী সাদৃশ্যপূর্ণ আমি আর কাউকে দেখিনি। আয়িশা (রাঃ) আরও বলেন, ফাতিমা (রাঃ) যখনই নবী (ﷺ)-এর নিকট আসতেন তিনি তখনই তার নিকট উঠে যেতেন, তাঁকে চুমু দিতেন এবং নিজের স্থানে বসাতেন। আর নবী (ﷺ) তাঁর ঘরে গেলে তিনিও নিজের জায়গা হতে উঠে তাঁকে (পিতাকে) চুমু দিতেন এবং নিজের জায়গায় বসাতেন।নবী (ﷺ) (মৃত্যুশয্যায়) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর নিকট এসে ফাতিমা (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর মুখের উপর ঝুঁকে পড়েন এবং তাঁকে চুমু দেন, তারপর মাথা তুলে কাঁদেন। আবার তিনি তাঁর মুখের উপর ঝুঁকে পড়েন, তারপর মাথা তুলে হাসেন। আমি (আয়িশা) বললাম, আমি অবশ্যই জানি যে, তিনি অবশ্যই আমাদের নারীদের মাঝে সর্বাধিক বুদ্ধিমতী, কিন্তু (তার হাসি দেখে ভাবলাম) অন্যান্য নারীর মত সে একজন নারীই।তারপর নবী (ﷺ) ইন্তেকাল করলে তাঁকে আমি প্রশ্ন করলাম, কি ব্যাপার! আপনি নবী (ﷺ)-এর মুখের উপর ঝুঁকে পড়লেন, তারপর মাথা তুলে কাঁদলেন, আবার ঝুঁকে পড়লেন, তারপর মাথা তুলে হাসলেন। আপনি কি কারণে এরূপ করলেন?ফাতিমা (রাঃ) বললেন, তাঁর জীবদ্দশায় আমি কথাটি গোপন রেখেছি (কারণ তিনি গোপন কথা প্রকাশ করা সঙ্গত মনে করতেন না)। আমাকে তিনি জানান যে, এই অসুখেই তিনি ইন্তেকাল করবেন, তাই আমি কেঁদেছি। তারপর তিনি আমাকে জানান যে, তাঁর পরিবারস্থ লোকদের মাঝে সবার পূর্বে আমিই তাঁর সঙ্গে একত্রিত হব। তাই আমি হেসেছি।

সহীহঃ নাক্বদুল কিত্তানী (৪৪-৪৫), বুখারী ও মুসলিম।আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান এবং উক্ত সনদে গারীব। হাদীসটি একাধিক সূত্রে 'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮৭২-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর উঠা-বসা, আচার-অভ্যাস ও চালচলনের সঙ্গে ফাতিমা (রাঃ)-এর মতো বেশি মিল আর কারও মধ্যে দেখেননি। ফাতিমা (রাঃ) এলে নবী (صلى الله عليه وسلم) উঠে তাঁকে চুমু দিতেন এবং নিজের স্থানে বসাতেন; নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর ঘরে গেলে ফাতিমা (রাঃ)-ও একইভাবে সম্মান করতেন। অসুস্থতার সময় নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে প্রথমে নিজের মৃত্যুর সংবাদ দেন, তাই তিনি কাঁদেন। পরে বলেন, পরিবারের মধ্যে তিনিই আগে তাঁর সঙ্গে মিলিত হবেন, তাই তিনি হাসেন। এখানে ফাতিমা (রাঃ)-এর আদব, গোপন কথা রক্ষা, পিতা-কন্যার ভালোবাসা এবং নবীজির পরিবারের কোমল সম্পর্ক ফুটে ওঠে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বড়দের সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করা সুন্দর আদব।
  • গোপন কথা রক্ষা করা প্রশংসনীয় চরিত্র।
  • ফাতিমা (রাঃ)-এর চালচলনে নবীজির সঙ্গে গভীর মিল ছিল।
  • দুঃখ ও সান্ত্বনা একই ঘটনার মধ্যে আসতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন