৪৬/৪১. অধ্যায়ঃ
উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ)-এর মর্যাদা
নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রিয়জন: ফাতিমা, উসামা ও আলী রাঃ-এর মর্যাদা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৮১৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৮১৯
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْحَسَنِ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، أَخْبَرَنِي أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِذْ جَاءَ عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ يَسْتَأْذِنَانِ فَقَالاَ يَا أُسَامَةُ اسْتَأْذِنْ لَنَا عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلِيٌّ وَالْعَبَّاسُ يَسْتَأْذِنَانِ . فَقَالَ " أَتَدْرِي مَا جَاءَ بِهِمَا " . قُلْتُ لاَ أَدْرِيَ . فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لَكِنِّي أَدْرِي " . فَأَذِنَ لَهُمَا فَدَخَلاَ فَقَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ أَىُّ أَهْلِكَ أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ " فَاطِمَةُ بِنْتُ مُحَمَّدٍ " . فَقَالاَ مَا جِئْنَاكَ نَسْأَلُكَ عَنْ أَهْلِكَ . قَالَ " أَحَبُّ أَهْلِي إِلَىَّ مَنْ قَدْ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَنْعَمْتُ عَلَيْهِ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ " . قَالاَ ثُمَّ مَنْ قَالَ " ثُمَّ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ " . قَالَ الْعَبَّاسُ يَا رَسُولَ اللَّهِ جَعَلْتَ عَمَّكَ آخِرَهُمْ قَالَ " لأَنَّ عَلِيًّا قَدْ سَبَقَكَ بِالْهِجْرَةِ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَكَانَ شُعْبَةُ يُضَعِّفُ عُمَرَ بْنَ أَبِي سَلَمَةَ .
উসামা ইবনু যাইদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বসে থাকাকালীন সময়ে আলী ও আব্বাস (রাঃ) হাজির হয়ে সম্মতি চেয়ে বলেন, “হে উসামা! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকটে আমাদের ঢোকার অনুমতি চাও।” আমি বললাম, “হে আল্লাহর রাসূল! আলী ও আব্বাস (রাঃ) প্রবেশের অনুমতিপ্রার্থী।” তিনি বললেন: “তুমি কি জানো তারা কেন এসেছে?” আমি বললাম, “না, আমি জানি না।” তিনি বললেন, “কিন্তু আমি জানি।” তাদেরকে সম্মতি দিলেন।তারা দুজনে ভেতরে আসলেন এবং বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনার নিকট এ কথা জানতে এসেছি যে, আপনার পরিবারবর্গের মধ্যে কে আপনার বেশি আদরের?” তিনি বললেনঃ “ফাতিমা বিনত মুহাম্মদ।”তারা বললেন, “আমরা আপনার পরিবার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করতে আসিনি।” তিনি বললেন, “আমার পরিবারের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আমার বেশি আদরের যার প্রতি আল্লাহ দয়া করেছেন এবং আমিও দয়া করেছি অর্থাৎ উসামা বিন যায়দ।”তারা আবার প্রশ্ন করেন, “তারপর কে?” তিনি বললেনঃ “তারপর আলী বিন আবু তালিব।” আব্বাস (রাঃ) বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি আপনার চাচাকে সবার শেষ ভাগে রাখলেন?” তিনি বললেন: “হিজরতের কারণে আলী আপনাকে ছাড়িয়ে গেছে।”
যঈফ, মিশকাত (৬১৬৮)আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উসামা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বসে ছিলেন। তখন আলী ও আব্বাস (রাঃ) এসে প্রবেশের অনুমতি চান। তাঁরা জানতে চান, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর পরিবারবর্গের মধ্যে কে তাঁর বেশি আদরের। তিনি বলেন, ফাতিমা বিনত মুহাম্মদ। তাঁরা জানান, তাঁরা এই অর্থে পরিবার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেননি। তখন তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের মধ্যে তাঁর কাছে বেশি আদরের সেই ব্যক্তি, যার প্রতি আল্লাহ দয়া করেছেন এবং তিনিও দয়া করেছেন—উসামা ইবনু যায়দ। এরপর তিনি আলী (রাঃ)-এর নাম বলেন। আব্বাস (রাঃ) প্রশ্ন করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, হিজরতের কারণে আলী তাঁকে ছাড়িয়ে গেছেন। এখানে ভালোবাসা, মর্যাদা, দয়া এবং হিজরতের গুরুত্ব একসঙ্গে এসেছে। ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত তালিকা বা শ্রেষ্ঠত্বের দাবি না করে হাদিসের বলা নামগুলোর মধ্যেই থাকা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফাতিমা (রাঃ)-এর প্রতি নবী صلى الله عليه وسلم-এর ভালোবাসা স্পষ্টভাবে এসেছে।
- উসামা (রাঃ)-এর প্রতি নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ দয়া ও ভালোবাসা ছিল।
- আলী (রাঃ)-এর হিজরতের মর্যাদা উল্লেখ করা হয়েছে।
- মর্যাদা নির্ধারণে নবী صلى الله عليه وسلم যে কারণ বলেছেন, সেটিই মানা উচিত।
