৪৬/২৬. অধ্যায়ঃ
আবদুর রহমান ইবনু আওফ আয-যুহ্রী (রাঃ)-এর মর্যাদা
আশারায়ে মুবাশশারা: দশজন জান্নাতী সাহাবীর নাম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৭৪৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৭৪৭
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُمَيْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَبُو بَكْرٍ فِي الْجَنَّةِ وَعُمَرُ فِي الْجَنَّةِ وَعُثْمَانُ فِي الْجَنَّةِ وَعَلِيٌّ فِي الْجَنَّةِ وَطَلْحَةُ فِي الْجَنَّةِ وَالزُّبَيْرُ فِي الْجَنَّةِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ فِي الْجَنَّةِ وَسَعْدٌ فِي الْجَنَّةِ وَسَعِيدٌ فِي الْجَنَّةِ وَأَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ الْجَرَّاحِ فِي الْجَنَّةِ " .
আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আবু বকর জান্নাতী, উমর জান্নাতী, উসমান জান্নাতী, আলী জান্নাতী, তালহা জান্নাতী, যুবাইর জান্নাতী, আবদুর রহমান ইবন আউফ জান্নাতী, সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস জান্নাতী, সাঈদ জান্নাতী এবং আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ জান্নাতী।
সহীহঃ মিশকাত (৬১১), তাখরীজ ত্বাহাভীয়াহ্ (৭২৮)।আবূ মুস’আব-‘আবদুল ‘আযীয ইবনু মুহাম্মাদ হতে, তিনি ‘আবদুর রহমান ইবনু হুমাইদ হতে, তিনি তার বাবা হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে, এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। এই সনদে ‘আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফ (রাঃ)-এর উল্লেখ নেই। এ হাদীস ‘আবদুর রহমান ইবনু হুমাইদ-তার পিতা হতে, তিনি সা'ঈদ ইবনু যাঈদ (রাঃ) হতে, তিনি নাবী (সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে এই সনদে পূর্বোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণিত হয়েছে। এ সনদে বর্ণিত হাদীসটি প্রথমোক্ত হাদীসের চাইতে অনেক বেশি সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭৪৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আশারায়ে মুবাশশারা, অর্থাৎ জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট করে বলেছেন: আবু বকর, উমর, উসমান, আলী, তালহা, যুবাইর, আবদুর রহমান ইবন আউফ, সাদ ইবন আবী ওয়াক্কাস, সাঈদ এবং আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ—তাঁরা জান্নাতী। তাই “দশজন জান্নাতী সাহাবীর নাম” এবং “আশারায়ে মুবাশশারা হাদিস” এই বর্ণনার প্রধান খোঁজার শব্দ। এখানে আমাদের বাড়তি ব্যাখ্যার দরকার নেই; নামগুলোই মূল বার্তা। হাদিসটি সাহাবীদের মর্যাদা বুঝতে সাহায্য করে এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সরাসরি সুসংবাদের গুরুত্ব দেখায়। তবে এটি পড়ে অন্য সাহাবীদের বিষয়ে কোনো সীমাবদ্ধ দাবি করা ঠিক নয়; এই হাদিস শুধু এই দশজনের নাম একসঙ্গে বলেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এই হাদিসে দশজন সাহাবীর জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
- সাহাবীদের মর্যাদা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যায়।
- হাদিসের ভাষার বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।
