৪৬/২১. অধ্যায়ঃ
মুনাফিকরা আলী (রাঃ)-এর প্রতি বিদ্বেষী
আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা: হারুনের স্থান, খাইবারের পতাকা ও আহলে বাইত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৭২৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৭২৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ بُكَيْرِ بْنِ مِسْمَارٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَمَّرَ مُعَاوِيَةُ بْنُ أَبِي سُفْيَانَ سَعْدًا فَقَالَ مَا يَمْنَعُكَ أَنْ تَسُبَّ أَبَا تُرَابٍ قَالَ أَمَّا مَا ذَكَرْتُ ثَلاَثًا قَالَهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلَنْ أَسُبَّهُ لأَنْ تَكُونَ لِي وَاحِدَةٌ مِنْهُنَّ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْ حُمْرِ النَّعَمِ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لِعَلِيٍّ وَخَلَفَهُ فِي بَعْضِ مَغَازِيهِ فَقَالَ لَهُ عَلِيٌّ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُخَلِّفُنِي مَعَ النِّسَاءِ وَالصِّبْيَانِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَمَا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بِمَنْزِلَةِ هَارُونَ مِنْ مُوسَى إِلاَّ أَنَّهُ لاَ نُبُوَّةَ بَعْدِي " . وَسَمِعْتُهُ يَقُولُ يَوْمَ خَيْبَرَ " لأُعْطِيَنَّ الرَّايَةَ رَجُلاً يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيُحِبُّهُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ " . قَالَ فَتَطَاوَلْنَا لَهَا فَقَالَ " ادْعُ لِي عَلِيًّا " . فَأَتَاهُ وَبِهِ رَمَدٌ فَبَصَقَ فِي عَيْنِهِ فَدَفَعَ الرَّايَةَ إِلَيْهِ فَفَتَحَ اللَّهُ عَلَيْهِ . وَأُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : ( قلْ تَعَالَوْا نَدْعُ أَبْنَاءَنَا وَأَبْنَاءَكُمْ ) الآيَةَ دَعَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلِيًّا وَفَاطِمَةَ وَحَسَنًا وَحُسَيْنًا فَقَالَ " اللَّهُمَّ هَؤُلاَءِ أَهْلِي " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আমির ইবনু সা'দ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রহঃ) হতে তার পিতা হতে বর্ণিতঃ
মু'আবিয়াহ ইবনু আবি সুফিয়ান (রাঃ) সাদ (রাঃ)-কে আমীর নিযুক্ত করে বললেন, “আবু তুরাবকে গালি দিতে তোমায় বাধা দিল কিসে?” সাদ (রাঃ) বললেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত আমি তিনটি কথা মনে রাখব, যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সে সময় পর্যন্ত আমি তাঁকে গালমন্দ করব না। ঐগুলোর একটি কথাও আমার নিকটে লাল রঙের উট লাভের তুলনায় বেশি প্রিয়।(১) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি আলী (রাঃ)-এর লক্ষ্যে একটি কথা বলতে শুনেছি, যে সময় তিনি তাঁকে মদীনায় তাঁর জায়গায় নিয়োগ করে কোন এক যুদ্ধাভিযানে যান। সে সময় আলী (রাঃ) তাঁকে বললেন, “হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে শিশু ও নারীদের সঙ্গে কি রেখে যাচ্ছেন?” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেন: “হে আলী! তুমি কি এতে খুশি নও যে, তোমার মর্যাদা আমার নিকট মূসা (আঃ)-এর নিকট হারুন (আঃ)-এর মতই? কিন্তু (পার্থক্য এই যে,) আমার পরবর্তীতে কোন নবী নেই।”(২) আমি খাইবারের (যুদ্ধাভিযানের) দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি: “এমন এক লোকের হাতে আমি (যুদ্ধের) পতাকা অর্পণ করব যে আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসে এবং আল্লাহ তা'আলা ও তাঁর রাসূলও তাঁকে মুহাব্বাত করেন।” বর্ণনাকারী বলেন, প্রত্যেকে তা লাভের আশায় অপেক্ষা করতে থাকলাম। তিনি বললেন: “তোমরা আলীকে আমার নিকটে ডেকে আন।” বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাঁর কাছে এসে হাজির হন, তখন তার চোখ উঠেছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দুই চোখে স্বীয় মুখ নিঃসৃত লালা লাগিয়ে দেন এবং তাঁর হাতে পতাকা অর্পণ করেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে বিজয়ী করলেন।(৩) এ আয়াত যখন অবতীর্ণ হল (অনুবাদ): “আমরা আহ্বান করি আমাদের পুত্রদেরকে ও তোমাদের পুত্রদেরকে, আমাদের নারীদেরকে ও তোমাদের নারীদেরকে.....”- (সূরা আ-লি ইমরান ৬১)। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-কে ডাকেন (এবং তাঁদেরকে নিয়ে খোলা ময়দানে গিয়ে) বললেন: “হে আল্লাহ! এরা সকলে আমার পরিবার-পরিজন।”
সহীহঃ মুসলিম (হাঃ ৭/১২০)।আবু 'ঈসা বলেন, উপর্যুক্ত সনদে এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সা‘দ (রাঃ) আলী (রাঃ)-কে গালমন্দ না করার কারণ হিসেবে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর তিনটি কথা স্মরণ করেন। প্রথমত, নবীজি (صلى الله عليه وسلم) আলী (রাঃ)-কে বলেন, তাঁর মর্যাদা নবী মূসা (আঃ)-এর কাছে হারুন (আঃ)-এর মর্যাদার মতো; তবে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর পরে কোনো নবী নেই। দ্বিতীয়ত, খাইবারের দিন নবীজি বলেন, তিনি এমন ব্যক্তির হাতে পতাকা দেবেন, যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলও তাকে ভালোবাসেন। এরপর আলী (রাঃ)-কে ডাকা হয়। তৃতীয়ত, আহলে বাইত প্রসঙ্গে আলী, ফাতিমা, হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-কে ডেকে নবীজি বলেন, এরা তাঁর পরিবার। এই হাদিসে আলী (রাঃ)-এর মর্যাদা, ভালোবাসা এবং আহলে বাইতের সম্মান স্পষ্টভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবিদের মর্যাদা স্মরণ করলে তাদের বিষয়ে খারাপ ভাষা থেকে বাঁচা সহজ হয়।
- আলী (রাঃ)-এর প্রতি নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ আস্থা ও ভালোবাসা ছিল।
- আহলে বাইতের সম্মান মুসলিমদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর পরে আর কোনো নবী নেই—এ কথা এখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে।
