২/১৬১. অধ্যায়ঃ
নামাযের মধ্যে হাই তোলা মাকরূহ
নামাজে হাই তোলা: যথাসাধ্য দমন করার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৭০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৭০
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " التَّثَاؤُبُ فِي الصَّلاَةِ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِذَا تَثَاءَبَ أَحَدُكُمْ فَلْيَكْظِمْ مَا اسْتَطَاعَ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَجَدِّ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ التَّثَاؤُبَ فِي الصَّلاَةِ . قَالَ إِبْرَاهِيمُ إِنِّي لأَرُدُّ التَّثَاؤُبَ بِالتَّنَحْنُحِ .
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: নামাজের মধ্যে হাই তোলা শয়তানের তরফ হতে হয়ে থাকে। তোমাদের কারো হাই আসলে সে যেন তা ফিরাতে যথাসাধ্য চেষ্টা করে।
সহীহ। য’ঈফা-(২৪২০), মুসলিম।এ অনুচ্ছেদে আবু সাঈদ আল-খুদরী এবং আদী ইবনু সাবিতের দাদা হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ‘ঈসা বলেনঃ আবু হুরায়রা (রাঃ)’র হাদীসটি হাসান সহীহ। আলিমদের একটি দল নামাযের মধ্যে হাই তোলা মাকরূহ মনে করেন। ইবরাহীম নাখঈ বলেন, আমি কাশি দিয়ে হাই তোলা নিবারণ করি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নামাজে হাই তোলা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, নামাজের মধ্যে হাই তোলা শয়তানের তরফ থেকে হয়ে থাকে। তাই কারো হাই এলে সে যেন যথাসাধ্য তা ফিরিয়ে রাখার চেষ্টা করে। এখানে ‘যথাসাধ্য’ শব্দটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হাদিসে মানুষের সক্ষমতার সীমা বিবেচনা করা হয়েছে। নামাজে মনোযোগ, স্থিরতা এবং আদব রক্ষা করার শিক্ষা এতে আছে। হাই আসা মানুষের স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে, কিন্তু নামাজের সময় সেটিকে খোলা রেখে অবহেলা করা ঠিক নয়—হাদিসে চেষ্টা করার নির্দেশ এসেছে। তাই নামাজে হাই এলে মুখ, শরীর ও মনকে সামলে রাখার চেষ্টা করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজে হাই এলে তা যথাসাধ্য দমন করার নির্দেশ এসেছে।
- হাদিসে নামাজের মনোযোগ ও আদব রক্ষার শিক্ষা আছে।
- মানুষের সাধ্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে চেষ্টা করতে বলা হয়েছে।
- নামাজে অবহেলা নয়, সচেতনতা দরকার।
