৪৬/১৬. অধ্যায়ঃ
আবু বাকর ও উমর (রাঃ)-এর গুণাবলী
আবু বকর (রাঃ)-এর ইমামতি: নবীজির বারবার নির্দেশ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৬৭২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৬৭২
حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى، إِسْحَاقُ بْنُ مُوسَى الأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنَا مَعْنٌ، هُوَ ابْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ " . فَقَالَتْ عَائِشَةُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ إِذَا قَامَ مَقَامَكَ لَمْ يُسْمِعِ النَّاسَ مِنَ الْبُكَاءِ فَأْمُرْ عُمَرَ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ . قَالَتْ فَقَالَ " مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ " . قَالَتْ عَائِشَةُ فَقُلْتُ لِحَفْصَةَ قُولِي لَهُ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ إِذَا قَامَ مَقَامَكَ لَمْ يُسْمِعِ النَّاسَ مِنَ الْبُكَاءِ فَأْمُرْ عُمَرَ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ فَفَعَلَتْ حَفْصَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّكُنَّ لأَنْتُنَّ صَوَاحِبُ يُوسُفَ مُرُوا أَبَا بَكْرٍ فَلْيُصَلِّ بِالنَّاسِ " . فَقَالَتْ حَفْصَةُ لِعَائِشَةَ مَا كُنْتُ لأُصِيبَ مِنْكِ خَيْرًا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ وَأَبِي مُوسَى وَابْنِ عَبَّاسٍ وَسَالِمِ بْنِ عُبَيْدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمْعَةَ .
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বললেনঃ আবু বকরকে হুকুম দাও, তিনি যেন লোকদের নামাজ আদায় করান।আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আবু বকর আপনার স্থানে দাঁড়ালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার কারণে লোকদেরকে কিরাআত শুনাতে পারবেন না। অতএব আপনি উমর (রাঃ)-কে হুকুম দিন তিনি যেন লোকদের নামাজ আদায় করান।আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি পুনরায় বললেনঃ আবু বকরকে নির্দেশ দাও তিনি যেন লোকদের নামাজ আদায় করান।আয়িশা (রাঃ) বলেন, এবার আমি হাফসা (রাঃ)-কে বললাম, আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলুন, আবু বকর (রাঃ) তাঁর স্থানে দাঁড়ালে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ার কারণে লোকদেরকে (তার কিরাআত) শুনাতে পারবেন না। অতএব আপনি উমর (রাঃ)-কে বলুন তিনি যেন লোকদের নামাজ আদায় করান।হাফসা (রাঃ) তাই করলেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তোমরাই তো ইউসুফ (আঃ)-এর জন্য সমস্যা সৃষ্টিকারী সঙ্গী (যার ফলে তিনি জেলে যেতে বাধ্য হন)। আবু বকরকেই লোকদের নামাজ আদায় করানোর হুকুম দাও।সে সময় হাফসা (রাঃ) আয়িশা (রাঃ)-কে বললেন, কখনো আমি তোমার নিকট হতে মঙ্গল পাইনি।
সহীহঃ ইবনু মাজাহ (১২৩২), বুখারী ও মুসলিম।আবু 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ অনুচ্ছেদে 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস'ঊদ, আবু মূসা, ইবনু 'আব্বাস, সালিম ইবনু 'উবাইদ ও 'আবদুল্লাহ ইবনু যাম'আহ্ (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৬৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, আবু বকরকে হুকুম দাও, তিনি যেন লোকদের নামাজ আদায় করান। আয়িশা (রাঃ) বলেন, আবু বকর (রাঃ) আপনার স্থানে দাঁড়ালে কান্নার কারণে লোকদের কিরাআত শুনাতে পারবেন না। তিনি উমর (রাঃ)-কে নির্দেশ দিতে বলেন। কিন্তু নবীজি আবারও আবু বকর (রাঃ)-কেই নামাজ পড়াতে বলেন। পরে হাফসা (রাঃ)-এর মাধ্যমেও একই কথা বলা হলে নবীজি নারীদের কথার জবাব দিয়ে আবার বলেন, আবু বকরকেই লোকদের নামাজ আদায় করানোর নির্দেশ দাও। এখানে মূল বিষয় হলো আবু বকর ইমামতি হাদিস। তাঁর কোমল মন থাকা সত্ত্বেও নবীজি তাঁকেই সামনে রাখলেন। এতে তাঁর উপর নবীজির আস্থা পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি আবু বকর (রাঃ)-কে নামাজের ইমাম বানাতে স্পষ্ট নির্দেশ দেন।
- কোমল মন থাকা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা থাকতে পারে।
- একই নির্দেশ বারবার আসা বিষয়টির গুরুত্ব বোঝায়।
- নামাজের নেতৃত্বে আস্থা ও যোগ্যতার মূল্য আছে।
