৪৫/১১৪. অধ্যায়ঃ
নাবী (ﷺ) প্রতি নামাযের পর যে দোয়া দ্বারা আশ্রয় প্রার্থনা করতেন
নামাজের পর আশ্রয়ের দোয়া: ভীতুতা, কৃপণতা ও ফিতনা থেকে বাঁচা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৫৬৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৫৬৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّا بْنُ عَدِيٍّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، هُوَ ابْنُ عَمْرٍو الرَّقِّيُّ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، وَعَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ كَانَ سَعْدٌ يُعَلِّمُ بَنِيهِ هَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ كَمَا يُعَلِّمُ الْمُكْتِبُ الْغِلْمَانَ وَيَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَتَعَوَّذُ بِهِنَّ دُبُرَ الصَّلاَةِ " اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ " . قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ مُضْطَرِبٌ فِي هَذَا الْحَدِيثِ يَقُولُ عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ عَنْ عُمَرَ وَيَقُولُ عَنْ غَيْرِهِ وَيَضْطَرِبُ فِيهِ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
মুসআব ইবনু সাদ ও আমর ইবনু মাইমূন (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তারা প্রত্যেকে বলেন, সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) নিম্নোক্ত বাক্যগুলো তাঁর সন্তানদেরকে এমনভাবে শিক্ষা দিতেন, যেমনভাবে মক্তবে শিক্ষক শিশুদেরকে শিক্ষা দেন। তিনি বলতেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নামাজের পর এগুলো দ্বারা আল্লাহ তাআলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেনঃ “হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি ভীতুতা হতে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে কৃপণতা হতে আশ্রয় চাই, তোমার কাছে অতি বার্ধক্যে পৌঁছার বয়স হতে আশ্রয় চাই এবং তোমার কাছে দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের শাস্তি হতে আশ্রয় চাই”।
সহীহঃ বুখারী (২৮২২, ৬৩৬৯)
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাদ ইবনু আবী ওয়াক্কাস (রাঃ) তাঁর সন্তানদের কিছু দোয়া এমন যত্নে শেখাতেন, যেমন শিক্ষক শিশুদের শেখান। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নামাজের পর এই বাক্যগুলো দিয়ে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন। দোয়ায় আছে ভীতুতা থেকে আশ্রয়, কৃপণতা থেকে আশ্রয়, খুব অসহায় বার্ধক্যে পৌঁছা থেকে আশ্রয়, দুনিয়ার ফিতনা এবং কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয়। এই হাদিসে নামাজের পর দোয়া, আল্লাহর কাছে আশ্রয়, দুনিয়ার ফিতনা, কবরের আযাব—সব বিষয় সরাসরি এসেছে। সন্তানদের দোয়া শেখানোও এখানে সুন্দরভাবে দেখা যায়। ব্যাখ্যায় এটুকুই বলা নিরাপদ যে, এই দোয়া মানুষকে নিজের দুর্বলতা চিনতে এবং আল্লাহর নিরাপত্তা চাইতে শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নামাজের পর আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা আছে।
- ভীতুতা ও কৃপণতা থেকে বাঁচতে দোয়া করা উচিত।
- দুনিয়ার ফিতনা ও কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
- সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই দোয়া শেখানো ভালো।
