৪৫/১০৪. অধ্যায়ঃ
(একটি দোয়া দশবার পাঠ করার সওয়াব)
জুওয়াইরিয়া (রাঃ)-এর তাসবিহ: গভীর অর্থের সহজ যিকর
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৫৫৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৫৫৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَ سَمِعْتُ كُرَيْبًا، يُحَدِّثُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنْ جُوَيْرِيَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ عَلَيْهَا وَهِيَ فِي مَسْجِدٍ ثُمَّ مَرَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِهَا قَرِيبًا مِنْ نِصْفِ النَّهَارِ فَقَالَ لَهَا " مَا زِلْتِ عَلَى حَالِكِ " . فَقَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " أَلاَ أُعَلِّمُكِ كَلِمَاتٍ تَقُولِينَهَا سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ رِضَا نَفْسِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ زِنَةَ عَرْشِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ سُبْحَانَ اللَّهِ مِدَادَ كَلِمَاتِهِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ هُوَ مَوْلَى آلِ طَلْحَةَ وَهُوَ شَيْخٌ مَدَنِيٌّ ثِقَةٌ وَقَدْ رَوَى عَنْهُ الْمَسْعُودِيُّ وَسُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ .
উম্মুল মুমিনীন জুওয়াইরিয়াহ বিনতুল হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার কাছ দিয়ে অতিক্রম করলেন, সে সময় তিনি তার (ঘরে) নামাজের জায়গায় ছিলেন। আবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রায় দুপুরে তার কাছ দিয়ে গমন করেন এবং তাকে বললেনঃ তুমি কি তখন হতে এই অবস্থায় আছ? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমি তোমাকে কি কিছু বাক্য শিখিয়ে দিব না যা তুমি বলবে? “আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকুলের সমপরিমাণ মহাপবিত্র” (৩ বার), “আল্লাহ তাঁর সত্তার সন্তোষ মোতাবেক মহাপবিত্র” (৩ বার), “আল্লাহ তাঁর আরশের ওজনের সমপরিমাণ মহাপবিত্র” (৩ বার), “আল্লাহ তাঁর কালামের সমান মহাপবিত্র” (তিন বার)।
সহীহঃ ইবনু মাজাহ (৩৮০৮), মুসলিম
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এক সময় জুওয়াইরিয়া (রাঃ)-এর কাছ দিয়ে গেলেন, তিনি নামাজের জায়গায় ছিলেন। পরে প্রায় দুপুরে ফিরে এসে তাঁকে একই অবস্থায় দেখে জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি তখন থেকেই এভাবে আছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে কয়েকটি তাসবিহ শিখালেন—আল্লাহ তাঁর সৃষ্টিকুলের সংখ্যা পরিমাণ পবিত্র, তাঁর সত্তার সন্তোষ পরিমাণ পবিত্র, তাঁর আরশের ওজন পরিমাণ পবিত্র এবং তাঁর কালামের সমান পবিত্র—প্রতিটি তিনবার। এখানে যিকরের গভীরতা ও অর্থের গুরুত্ব বোঝা যায়। দীর্ঘ সময় বসে থাকার পাশাপাশি অর্থবহ তাসবিহও বড় শিক্ষা বহন করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অর্থপূর্ণ তাসবিহ বান্দাকে আল্লাহর মহিমা স্মরণ করায়।
- যিকরের মধ্যে আল্লাহর সৃষ্টি, সন্তোষ, আরশ ও কালামের উল্লেখ এসেছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের সহজ ও গভীর অর্থের আমল শেখাতেন।
- ইবাদতে সময় দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক দোয়া ও যিকর শেখাও জরুরি।
