২/১৫১. অধ্যায়ঃ
তন্দ্রা অবস্থায় নামায আদায় করা উচিত নয়
নামাজে ঘুম এলে কী করণীয়: তন্দ্রা নিয়ে হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৫৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৫৫
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ الْكِلاَبِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا نَعَسَ أَحَدُكُمْ وَهُوَ يُصَلِّي فَلْيَرْقُدْ حَتَّى يَذْهَبَ عَنْهُ النَّوْمُ فَإِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا صَلَّى وَهُوَ يَنْعَسُ لَعَلَّهُ يَذْهَبُ يَسْتَغْفِرُ فَيَسُبَّ نَفْسَهُ " . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عَائِشَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ নামাজরত অবস্থায় তোমাদের কারও ঘুম আসলে সে যেন প্রথমে ঘুমিয়ে নেয়। তাতে তার ঘুমের আবেশ কেটে যাবে। কেননা সে যদি তন্দ্রা অবস্থায় নামাজ আদায় করে তবে এরূপ হওয়া মোটেই অসম্ভব নয় যে, সে গুনাহের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে গিয়ে নিজেকে গালি দেবে।
সহীহ্। ইবনু মাজাহ-(১৩৭০), বুখারী ও মুসলিম।এ অনুচ্ছেদে আনাস ও আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ‘ঈসা বলেনঃ ‘আয়িশাহ্’র হাদীসটি হাসান সহীহ্।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, নামাজরত অবস্থায় কারও ঘুম আসলে সে যেন আগে ঘুমিয়ে নেয়, যাতে ঘুমের আবেশ কেটে যায়। কারণ তন্দ্রা অবস্থায় নামাজ পড়লে এমন হতে পারে যে, সে ক্ষমা চাইতে গিয়ে নিজের বিরুদ্ধে ভুল কথা বলে ফেলবে। মূল বিষয় হলো নামাজে সচেতনতা ও মনোযোগ। এই হাদিস মানুষকে শেখায়, ইবাদত শুধু শরীরের নড়াচড়া নয়; বুঝে, জেনে এবং মন নিয়ে করা দরকার। ঘুমের চাপে মানুষ কী পড়ছে বা কী বলছে তা বুঝতে না পারে। তাই তন্দ্রা কেটে গেলে নামাজে দাঁড়ানো ভালো। এখানে অতিরঞ্জন করে বলা যাবে না যে, সামান্য ক্লান্তি হলেই সব নামাজ ছাড়তে হবে। হাদিসে যে অবস্থা বলা হয়েছে, তা হলো নামাজে এমন ঘুম আসা যা কথাবার্তা ভুল করিয়ে দিতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তন্দ্রা অবস্থায় নামাজে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- ইস্তিগফার ও দোয়া বুঝে বলা দরকার।
- নামাজে মন ও জ্ঞান উপস্থিত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
- শরীরের দুর্বলতা বুঝে ইবাদতে ভারসাম্য রাখা দরকার।
