৪৫/৮০. অধ্যায়ঃ
(আল্লাহ! নির্দয় লোককে আমাদের শাসক পদে নিয়োগ করো না)
মজলিস শেষে দোয়া: তাকওয়া, আনুগত্য ও দ্বীনের নিরাপত্তা
জামে তিরমিযী : ৩৫০২
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৫০২
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ زَحْرٍ، عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، قَالَ قَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُومُ مِنْ مَجْلِسٍ حَتَّى يَدْعُوَ بِهَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ لأَصْحَابِهِ " اللَّهُمَّ اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا يَحُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيكَ وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ وَمِنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ بِهِ عَلَيْنَا مُصِيبَاتِ الدُّنْيَا وَمَتِّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا وَأَبْصَارِنَا وَقُوَّتِنَا مَا أَحْيَيْتَنَا وَاجْعَلْهُ الْوَارِثَ مِنَّا وَاجْعَلْ ثَأْرَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا وَلاَ تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا وَلاَ تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا وَلاَ مَبْلَغَ عِلْمِنَا وَلاَ تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لاَ يَرْحَمُنَا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَقَدْ رَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ خَالِدِ بْنِ أَبِي عِمْرَانَ عَنْ نَافِعٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিম্নোক্ত বাক্যে তাঁর সাহাবীদের জন্য দোয়া না করে হঠাৎ মজলিস হতে খুব কমই বিদায় হতেনঃ “হে আল্লাহ! আমাদের মাঝে তুমি এতো পরিমাণ আল্লাহভীতি ভাগ কর যা আমাদের মাঝে ও তোমার প্রতি অবাধ্যতার মাঝে বাধা হতে পারে এবং আমাদের মাঝে তোমার প্রতি আনুগত্য এতো পরিমাণ প্রদান করো যার দ্বারা তুমি আমাদেরকে তোমার জান্নাতে পৌঁছে দিবে, এতটা দৃঢ় প্রত্যয় প্রদান কর যার মাধ্যমে তুমি পৃথিবীর যে কোন অনিষ্ট আমাদের জন্য সহজসাধ্য করবে, যতক্ষণ আমাদের তুমি জীবিত রাখ ততক্ষণ আমাদের কর্ণ, আমাদের চক্ষু ও আমাদের শক্তি-সামর্থ্য দিয়ে আমাদের জীবনোপকরণ দান কর (কিংবা আমাদের চোখ-কান মৃত্যু পর্যন্ত তাজা ও সুস্থ রাখ), আর তাকে আমাদের উত্তরাধিকার বানিয়ে দাও।আমাদের উপর যে জুলুম করে তার প্রতি আমাদের প্রতিশোধ সুনির্ধারিত কর, আমাদের প্রতি যে দুশমনি করে তার বিরুদ্ধে আমাদেরকে সহযোগিতা কর, আমাদের ধর্ম পালনে আমাদের বিপদাক্রান্ত করো না, দুনিয়া অর্জনকে আমাদের ও আমাদের জ্ঞানের উদ্দেশ্যে রূপান্তর করোনা এবং আমাদের প্রতি যে দয়া করবে না তাকে আমাদের উপর প্রভাবশালী (শাসক নিয়োগ) করো না”।
হাসানঃ আল-কালিমুত তাইয়িব (হাঃ ২২৫/১৬৯), মিশকাত তাহক্কিক সানী (হাঃ ২৪৯২)আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব । এ হাদীসটি কিছু বর্ণনাকারী খালিদ ইবনু আবী ইমরান হতে, তিনি নাফি’ হতে, তিনি ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে এই সনদে রিওয়ায়াত করেছেন।
জামে তিরমিযী হাদিস ৩৫০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মজলিসের দোয়া সম্পর্কে একটি সুন্দর শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের সঙ্গে বসা শেষ করার আগে খুব কমই এই দোয়া না করে উঠতেন। দোয়ার শুরুতে আল্লাহভীতি চাওয়া হয়েছে, এমন ভয় যা মানুষকে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে দূরে রাখে। এরপর এমন আনুগত্য চাওয়া হয়েছে, যা জান্নাতের পথে সাহায্য করে। আবার এমন দৃঢ় বিশ্বাস চাওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে দুনিয়ার কষ্ট সহজ হয়। দোয়ায় কান, চোখ ও শক্তির উপকার ধরে রাখার আবেদন আছে। জুলুমকারীর বিরুদ্ধে সাহায্য, দ্বীনের বিপদ থেকে বাঁচা, দুনিয়াকে জীবনের প্রধান চিন্তা না বানানো—এসব কথাও আছে। তাই এটি শুধু মজলিস শেষে পড়ার দোয়া নয়; এটি একজন মুমিনের পুরো জীবনের ভারসাম্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহভীতি মানুষকে গুনাহ থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।
- দুনিয়ার কষ্টের সময় দৃঢ় বিশ্বাস মুমিনের জন্য সহায়ক হয়।
- দ্বীনের ক্ষতি যেন না হয়—এটি দোয়ার বড় একটি শিক্ষা।
