৪৫/৫৮. অধ্যায়ঃ
সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহ ও আলহামদু লিল্লাহ পাঠ করার ফযীলত
যিকিরের ফজিলত: তাওহীদ, তাকবির ও লা হাওলা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৪৬০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৪৬০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي زِيَادٍ الْكُوفِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ السَّهْمِيُّ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ أَبِي صَغِيرَةَ، عَنْ أَبِي بَلْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا عَلَى الأَرْضِ أَحَدٌ يَقُولُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَاللَّهُ أَكْبَرُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ . إِلاَّ كُفِّرَتْ عَنْهُ خَطَايَاهُ وَلَوْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى شُعْبَةُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَبِي بَلْجٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ وَأَبُو بَلْجٍ اسْمُهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي سُلَيْمٍ وَيُقَالُ أَيْضًا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ . حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ حَاتِمِ بْنِ أَبِي صَغِيرَةَ، عَنْ أَبِي بَلْجٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَحَاتِمٌ يُكْنَى أَبَا يُونُسَ الْقُشَيْرِيَّ .حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي بَلْجٍ، نَحْوَهُ وَلَمْ يَرْفَعْهُ .
আবদুল্লাহ ইবনু 'আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ পৃথিবীর বক্ষে যে লোকই বলে, “আল্লাহ তা’আলা ব্যতীত কোন মা’বূদ নেই, আল্লাহ সুমহান, খারাপকে রোধ করা এবং কল্যাণকে লাভ করার শক্তি আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কারো নেই”, তার অপরাধগুলো মাফ করা হয়, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির ন্যায় (বেশি) হয়।
হাসানঃ তা’লীকুর রাগীব (হাঃ ২/২৪৯)।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৪৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم একটি বড় ফজিলতের যিকির শিখিয়েছেন। কেউ পৃথিবীতে বলে, আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বূদ নেই, আল্লাহ মহান, আর মন্দ রোধ করা ও কল্যাণ লাভের শক্তি আল্লাহ ছাড়া কারও নেই—তাহলে তার অপরাধগুলো মাফ করা হয়, যদিও তা সাগরের ফেনারাশির মতো বেশি হয়। এখানে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থ আছে। প্রথমে তাওহীদ—ইবাদতের যোগ্য একমাত্র আল্লাহ। এরপর আল্লাহর বড়ত্বের ঘোষণা। তারপর নিজের শক্তিহীনতা ও আল্লাহর ওপর নির্ভরতার স্বীকৃতি। যিকিরটি ছোট, কিন্তু অর্থে গভীর। হাদিসে ক্ষমার কথা সরাসরি এসেছে, তাই এটি আশার বাণী দেয়। একই সঙ্গে এটি মানুষকে বিনয়ী করে, কারণ মঙ্গল পাওয়া ও অমঙ্গল থেকে বাঁচার শক্তি আল্লাহর কাছেই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ তাওহীদের মূল কথা স্মরণ করায়।
- আল্লাহু আকবর বলে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করা হয়।
- লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ মানুষকে আল্লাহর ওপর নির্ভরতা শেখায়।
- এই যিকিরের সঙ্গে গুনাহ মাফের ফজিলত হাদিসে এসেছে।
