৪৫/৫০. অধ্যায়ঃ
বজ্রধ্বনি শুনে যে দোয়া পাঠ করতে হবে
বজ্রধ্বনি শুনলে দোয়া: গজব থেকে রক্ষা ও মাফ চাওয়া
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৪৫০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৪৫০
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ بْنُ زِيَادٍ، عَنِ الْحَجَّاجِ بْنِ أَرْطَاةَ، عَنْ أَبِي مَطَرٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا سَمِعَ صَوْتَ الرَّعْدِ وَالصَّوَاعِقِ قَالَ " اللَّهُمَّ لاَ تَقْتُلْنَا بِغَضَبِكَ وَلاَ تُهْلِكْنَا بِعَذَابِكَ وَعَافِنَا قَبْلَ ذَلِكَ " . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে বলতেন: “হে আল্লাহ! তোমার গজব দিয়ে আমাদেরকে মেরে ফেলো না, তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করো না, বরং তার আগেই আমাদেরকে মাফ করে দাও”।
যঈফ, যঈফা (১০৪২), আল কালিমুত তায়্যিব (১৫৮/১১১), আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমরা শুধু উপরোক্ত সূত্রেই এ হাদীস জেনেছি।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৪৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বজ্রধ্বনি ও মেঘের গর্জন শুনলে যে দোয়া করতেন তা বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলতেন, হে আল্লাহ, তোমার গজব দিয়ে আমাদের মেরে ফেলো না, তোমার শাস্তি দিয়ে আমাদের নিশ্চিহ্ন করো না, বরং তার আগেই আমাদের মাফ করে দাও। এই দোয়ায় ভয়, বিনয় এবং ক্ষমা চাওয়ার মনোভাব আছে। বজ্রধ্বনি মানুষের মনে ভীতি আনতে পারে। নবী صلى الله عليه وسلم সেই মুহূর্তে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছেন। এখানে শুধু প্রাকৃতিক শব্দের কথা নয়, বরং আল্লাহর সামনে মানুষের দুর্বলতার কথাও আছে। দোয়াটি আমাদের শেখায়, ভয় বা অস্থিরতার সময় আতঙ্কে হারিয়ে না গিয়ে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা ও মাফ চাইতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বজ্রধ্বনি শুনলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় ও মাফ চাওয়া শেখানো হয়েছে।
- ভয়ের মুহূর্তে মুমিন আল্লাহর দিকে ফিরে যায়।
- গজব ও শাস্তি থেকে রক্ষার জন্য বিনয়ের সঙ্গে দোয়া করা উচিত।
- প্রকৃতির বড় শব্দও মানুষকে আল্লাহর স্মরণে ফিরিয়ে আনতে পারে।
