৪৫/৯. অধ্যায়ঃ
মুসলিম লোকের দোয়া কবুল হয়
দোয়া কবুল হওয়ার শর্ত ও দোয়ার ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩৮১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩৮১
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ لَهِيعَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَا مِنْ أَحَدٍ يَدْعُو بِدُعَاءٍ إِلاَّ آتَاهُ اللَّهُ مَا سَأَلَ أَوْ كَفَّ عَنْهُ مِنَ السُّوءِ مِثْلَهُ مَا لَمْ يَدْعُ بِإِثْمٍ أَوْ قَطِيعَةِ رَحِمٍ " . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে আমি বলতে শুনেছি: কোন ব্যক্তি (আল্লাহ তা‘আলার কাছে) কোন কিছু দোয়া করলে আল্লাহ তা‘আলা তাকে তা দান করেন কিংবা তার পরিপ্রেক্ষিতে তার হতে কোন অকল্যাণ প্রতিহত করেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে কোন গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়ার বা আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করার জন্য প্রার্থনা না করে।
হাসান : মিশকাত (হা : ২২৩৬)।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দোয়ার বড় একটি শিক্ষা এসেছে। মানুষ যখন আল্লাহর কাছে কিছু চায়, তখন তার দোয়া অবহেলিত যায় না। হাদিসের ভাষা অনুযায়ী, আল্লাহ তাকে চাওয়া জিনিস দান করেন, অথবা সেই দোয়ার বদলে তার কাছ থেকে কোনো অকল্যাণ সরিয়ে দেন। তবে এর একটি পরিষ্কার সীমা আছে। দোয়া যেন গুনাহের কাজে সাহায্য চাওয়ার জন্য না হয়, আর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্যও না হয়। তাই দোয়া কবুলের আমল বলতে শুধু হাত তুলে চাওয়া নয়, বরং সঠিক ও ভালো বিষয় চাওয়াও জরুরি। এই হাদিস আমাদের শেখায়, দোয়ার ফল আল্লাহর হিকমত অনুযায়ী আসে। কখনো সরাসরি পাওয়া যায়, কখনো বিপদ দূর হওয়ার মাধ্যমে দয়ার প্রকাশ ঘটে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহের কাজে বা আত্মীয়তা ছিন্ন করার জন্য দোয়া করা উচিত নয়।
- আল্লাহ দোয়ার জবাব দান বা অকল্যাণ দূর করার মাধ্যমে দিতে পারেন।
- দোয়ার ফল সব সময় এক রকমভাবে প্রকাশ পায় না, তাই বান্দার আশা রাখা উচিত।
