৪৪/৬১. অধ্যায়ঃ
সূরা আল-মুমতাহিনাহ
মুমিন নারীদের হিজরত পরীক্ষা ও নিয়তের সত্যতা
জামে তিরমিযী : ৩৩০৮
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩০৮
حَدَّثَنَا سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ الْفِرْيَابِيُّ، حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ الرَّبِيعِ، عَنِ الأَغَرِّ بْنِ الصَّبَّاحِ، عَنْ خَلِيفَةَ بْنِ حُصَيْنٍ، عَنْ أَبِي نَصْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، فِي قَوْلِهِ تَعَالَى : ( إذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ ) قَالَ كَانَتِ الْمَرْأَةُ إِذَا جَاءَتِ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لِتُسْلِمَ حَلَّفَهَا بِاللَّهِ مَا خَرَجْتُ مِنْ بُغْضِ زَوْجِي مَا خَرَجْتُ إِلاَّ حُبًّا لِلَّهِ وَلِرَسُولِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ .
ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
“তোমাদের নিকট মুমিন নারীরা হিজরত করে এলে তোমরা তাদের পরীক্ষা কর” (সূরা আল-মুমতাহানাহ-১০) শীর্ষক আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে তিনি বলেনঃ কোন স্ত্রীলোক ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট হাজির হলে তিনি তাকে আল্লাহ তা’আলার নামে শপথ করাতেনঃ আমি আমার স্বামীর প্রতি বিরাগভাজন হয়ে চলে আসিনি, আমি শুধু আল্লাহ তা’লা ও তাঁর রাসুলের প্রতি ভালোবাসায় জাগ্রত হয়েই চলে এসেছি।
যঈফ, বিচ্ছিন্ন , ইতহাফুল খাইরাহ আল মাহরাহ্ (৮/১৭৪)আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি গারীব।
জামে তিরমিযী হাদিস ৩৩০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় সূরা আল-মুমতাহিনার ১০ নম্বর আয়াতের অধীনে হিজরতকারী মুমিন নারীদের পরীক্ষা করার একটি দিক বলা হয়েছে। কোনো নারী ইসলাম গ্রহণের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এলে তাঁকে আল্লাহর নামে শপথ করানো হতো। শপথের বক্তব্য ছিল, তিনি স্বামীর প্রতি বিরক্তি বা ব্যক্তিগত অসন্তোষের কারণে ঘর ছেড়ে আসেননি; বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা থেকে এসেছেন। তাই এখানে মুমিন নারীদের হিজরত পরীক্ষা বলতে তাদের অন্তরের উদ্দেশ্য সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ঘোষণা নেওয়ার কথা বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি বাহ্যিক যাত্রার সঙ্গে নিয়তের সম্পর্ক দেখায়। একই কাজ দেখতে এক হলেও তার পেছনের কারণ আলাদা হতে পারে। এ কারণে ধর্মীয় সিদ্ধান্তে কেবল বাইরে কী ঘটেছে তা নয়, ব্যক্তি নিজে যে উদ্দেশ্য প্রকাশ করছে সেটিও গুরুত্ব পায়। তবে এই বর্ণনা ওই নির্দিষ্ট হিজরতের পরিস্থিতি নিয়েই কথা বলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হিজরতের মতো বড় সিদ্ধান্তে নিয়ত পরিষ্কার থাকা জরুরি।
- ব্যক্তিগত বিরাগ ও আল্লাহ-রাসূলের ভালোবাসার উদ্দেশ্য এক নয়।
- ধর্মীয় দাবি যাচাইয়ে স্পষ্ট বক্তব্য ও শপথ নেওয়া হয়েছিল।
- বাহ্যিক কাজের পাশাপাশি কাজের পেছনের উদ্দেশ্যও বিবেচিত হয়।
