৪৪/৬১. অধ্যায়ঃ
সূরা আল-মুমতাহিনাহ
নারীদের বাইআত: কুরআনের শর্ত ও শালীন পদ্ধতি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩০৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩০৬
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْتَحِنُ إِلاَّ بِالآيَةِ الَّتِي قَالَ اللَّهُ : (إذَا جَاءَكَ الْمُؤْمِنَاتُ يُبَايِعْنَكَ ) الآيَةَ .
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আয়াতটির জন্য লোকদের পরীক্ষা করতেন (অনুবাদ): “হে নবী! মু'মিন নারীরা তোমার নিকট এসে এই মর্মে যদি বাই‘আত করে যে, তারা আল্লাহর সঙ্গে কোনো শরীক স্থির করবে না, চুরি করবে না, যিনা করবে না.....”-(সূরা মুমতাহিনাহ ১২)। মাআমার (রহঃ) বলেন, ইবনু তাউস তার বাবার সূত্রে আমার কাছে রিওয়ায়াত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাত নিজস্ব মালিকানাধীন স্ত্রীলোক ব্যতীত অন্য কারো হাত স্পর্শ করেনি।
সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৪৮৯১), মুসলিম (হাঃ ৬/২৯)।আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুমিন নারীদের বাইআত গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে আয়িশা রা.-এর বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم নারীদের পরীক্ষা করতেন সেই আয়াতের শর্ত অনুযায়ী, যেখানে আল্লাহর সঙ্গে শরিক না করা, চুরি না করা, যিনা না করা এবং আরও কয়েকটি অঙ্গীকারের কথা আছে। অর্থাৎ বাইআতের ভিত্তি ছিল স্পষ্ট নৈতিক ও ঈমানি প্রতিশ্রুতি। বর্ণনার পরের অংশে মাআমার রহ. ইবন তাউসের সূত্রে জানান, নিজ মালিকানাধীন নারী ছাড়া অন্য কোনো নারীর হাত রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم স্পর্শ করেননি। তাই নারীদের বাইআত মানেই হাত মিলিয়ে শপথ নেওয়া—এমন ধারণা এই বর্ণনা সমর্থন করে না। এখানে মূল বিষয় হলো কুরআনের নির্দেশ মেনে অঙ্গীকার নেওয়া, নারীর সম্মান বজায় রাখা এবং শালীন সীমা রক্ষা করা। হাদিসটি বাইআতের বিষয়বস্তু ও পদ্ধতি—দুই দিকই সহজভাবে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারীদের বাইআত কুরআনে উল্লেখিত ঈমানি ও নৈতিক শর্তের ভিত্তিতে নেওয়া হতো।
- বাইআতের মূল হলো অঙ্গীকার; শারীরিক স্পর্শ তার শর্ত নয়।
- নারীর সম্মান ও শালীন সীমা বজায় রেখেই ধর্মীয় অঙ্গীকার নেওয়া যায়।
- কুরআনের আয়াত রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বাইআত গ্রহণের মানদণ্ড ছিল।
