৪৪/৫৯. অধ্যায়ঃ
সূরা আল-মুজাদালাহ
আহলে কিতাবের সালামের জবাব কী হবে
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৩০১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৩০১
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا يُونُسُ، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ قَتَادَةَ، حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، أَنَّ يَهُودِيًّا، أَتَى عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَصْحَابِهِ فَقَالَ السَّامُ عَلَيْكُمْ فَرَدَّ عَلَيْهِ الْقَوْمُ فَقَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " هَلْ تَدْرُونَ مَا قَالَ هَذَا " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ سَلَّمَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ . قَالَ " لاَ وَلَكِنَّهُ قَالَ كَذَا وَكَذَا رُدُّوهُ عَلَىَّ " . فَرَدُّوهُ قَالَ " قُلْتَ السَّامُ عَلَيْكُمْ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَ ذَلِكَ " إِذَا سَلَّمَ عَلَيْكُمْ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فَقُولُوا عَلَيْكَ " . قَالَ " عَلَيْكَ مَا قُلْتَ " . قَالَ : (وإِذَا جَاءُوكَ حَيَّوْكَ بِمَا لَمْ يُحَيِّكَ بِهِ اللَّهُ ) . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ইয়াহুদী নবী (ﷺ) ও তাঁর সাহাবীদের কাছে এসে বলল, “আস-সামু আলাইকুম" (তোমাদের মরণ হোক)। লোকেরা তার উত্তর দিল।নবী (ﷺ) বললেনঃ সে কী বলেছে তোমরা কি তা বুঝতে পেরেছ? তারা বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ভালো জানেন। হে আল্লাহর নবী! সে সালাম দিয়েছে। তিনি বললেনঃ না, অথচ সে এই এই কথা বলেছে। আমার কাছে তাকে তোমরা ফিরিয়ে নিয়ে আস।অতঃপর তারা তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এলে তিনি বললেনঃ তুমি কি বলেছ আস-সামু আলাইকুম? সে বলল, হ্যাঁ। নবী (ﷺ) সে সময় বললেনঃ তোমাদেরকে আহলে কিতাবের কেউ সালাম করলে তোমরা বলবে, “আলাইকা মা কুলতা" (যা তুমি বলেছ তোমার উপর তা-ই বর্ষিত হোক)।তারপর এ আয়াত তিনি পাঠ করেন- “যখন এরা তোমার কাছে আসে তখন তোমাকে এরূপ কথা দ্বারা অভিবাদন করে যার মাধ্যমে আল্লাহ তোমাকে অভিবাদন করেননি"-(সূরা মুজাদালা ৮)।
সহীহঃ ইরওয়া (হাঃ ৫/১১৭), মুসলিম আয়াতের উল্লেখ ব্যতীত।আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৩০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আহলে কিতাবের সালামের জবাব দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি শেখানো হয়েছে। এক ইয়াহুদি সাধারণ সালামের মতো শোনায় এমন শব্দ ব্যবহার করে আসলে মৃত্যুকামনা করেছিল। সাহাবিরা প্রথমে তার কথার আসল অর্থ বুঝতে পারেননি। নবী صلى الله عليه وسلم বিষয়টি যাচাই করেন, লোকটিকে ফিরিয়ে আনেন এবং সে কী বলেছে তা সরাসরি জিজ্ঞেস করেন। লোকটি স্বীকার করার পর তিনি বলেন, আহলে কিতাবের কেউ এমনভাবে সালাম করলে সংযতভাবে বলা হবে, আলাইকা মা কুলতা—অর্থাৎ তুমি যা বলেছ, তা তোমার ওপরই বর্তাক। এখানে উত্তেজিত বা বাড়াবাড়ি করে জবাব দেওয়ার বদলে কথার সত্যতা বোঝা, যাচাই করা এবং সীমিত ভাষায় উত্তর দেওয়ার শিক্ষা আছে। হাদিসে সূরা মুজাদালার আয়াতও পাঠ করা হয়েছে, যেখানে এমন বিকৃত অভিবাদনের কথা উল্লেখ আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোনা কথার অর্থ না বুঝে তাড়াহুড়া করে প্রতিক্রিয়া দেওয়া ঠিক নয়।
- অপমানজনক কথা যাচাই করে সংযত ও ন্যায্য ভাষায় উত্তর দিতে হবে।
- আহলে কিতাবের বিকৃত সালামের জবাব হাদিসে শেখানো সীমার মধ্যেই রাখা উচিত।
- কুরআনের আয়াত হাদিসের ঘটনার অর্থ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
