৪৪/৫৫. অধ্যায়ঃ
সূরা আল-ক্বামার
মক্কায় চাঁদ বিদীর্ণ: নিদর্শন দেখেও অস্বীকারের ঘটনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৮৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৮৬
حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ سَأَلَ أَهْلُ مَكَّةَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم آيَةً فَانْشَقَّ الْقَمَرُ بِمَكَّةَ مَرَّتَيْنِ فَنَزَلَت : (اقتَرَبَتِ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ ) إِلَى قَوْلِهِ : (سحْرٌ مُسْتَمِرٌّ ) يَقُولُ ذَاهِبٌ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন মক্কাবাসীরা নবী (ﷺ)-এর নিকট একটি নিদর্শন পেশ করার দাবি করল, সে সময় মক্কায় চাঁদটি দুইবার বিদীর্ণ হয়। এ সম্পর্কে আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদ): “কেয়ামত নিকটবর্তী হয়েছে এবং চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে। তারা কোন মু’জিযা (নিদর্শন) প্রত্যক্ষ করলে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং বলে, এটা তো চিরাচরিত যাদু”-(সূরা ক্বামার ১-২) যা এ মুহূর্তে শেষ হয়ে যাবে।
সহীহঃ বুখারী (হাঃ ৩৬৩৭, ৪৮৬৭, ৪৮৬৮), মুসলিম(হাঃ ৮/১৩৩); তবে এতে “নাযালাত” (অতঃপর নাযিল হল) শব্দের উল্লেখ নেই। বুখারীর বর্ণনায় “মাররাতাইন” (দুইবার) –এর স্থলে “ফিরক্বাতাইন” (দুই টুকরা) শব্দের উল্লেখ আছে। “মাররাতাইন” (দুইবার) শব্দ মুসলিমের বর্ণনায় আছে।আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বলেন, মক্কার লোকেরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে একটি নিদর্শন চেয়েছিল। তখন মক্কায় চাঁদ বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর সূরা ক্বামারের প্রথম দুই আয়াত নাজিল হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। আয়াতে কিয়ামত কাছে আসা, চাঁদ বিদীর্ণ হওয়া এবং মানুষ নিদর্শন দেখেও মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা আছে। তারা ঘটনাটিকে চলমান বা পুরোনো যাদু বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। এই হাদিসের মূল বিষয় শুধু চাঁদ বিদীর্ণ হওয়া নয়; স্পষ্ট নিদর্শনের সামনে মানুষের অস্বীকারের মনোভাবও এখানে ধরা পড়ে। কেউ প্রমাণ চাইতে পারে, কিন্তু প্রমাণ সামনে আসার পরও পূর্বধারণার কারণে তা অস্বীকার করতে পারে। বর্ণনাটি আমাদের সত্যের সামনে সৎ ও খোলা মন রাখার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মক্কাবাসীদের দাবির পর চাঁদ বিদীর্ণ হওয়ার নিদর্শন দেখানো হয়েছিল।
- নিদর্শন দেখার পরও কেউ মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে—হাদিসে এই মানসিকতা তুলে ধরা হয়েছে।
- সত্য যাচাইয়ের সময় আগে থেকেই ঠিক করা অস্বীকারের ভাষা থেকে সাবধান থাকা দরকার।
