৪৪/৫৪. অধ্যায়ঃ
সূরা আন-নাজম
মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর রবকে দেখেছেন: ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বর্ণনা
জামে তিরমিযী : ৩২৭৯
জামে তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৭৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ نَبْهَانَ بْنِ صَفْوَانَ الْبَصْرِيُّ الثَّقَفِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ كَثِيرٍ الْعَنْبَرِيُّ أَبُو غَسَّانَ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ أَبَانَ، عَنْ عِكْرِمَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ رَأَى مُحَمَّدٌ رَبَّهُ . قُلْتُ أَلَيْسَ اللَّهُ يَقُولُ : ( لا تُدْرِكُهُ الأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الأَبْصَارَ ) قَالَ وَيْحَكَ ذَاكَ إِذَا تَجَلَّى بِنُورِهِ الَّذِي هُوَ نُورُهُ وَقَدْ رَأَى مُحَمَّدٌ رَبَّهُ مَرَّتَيْنِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
ইকরিমা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর রবকে দেখেছেন। আমি বললাম, আল্লাহ কি বলেননি যে, “চোখের দৃষ্টি তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না, কিন্তু তিনি পরিবেষ্টন করেন সকল দৃষ্টি” (সূরা আল-আনআম-১০৩)? তিনি বললেনঃ তোমার জন্য আফসোস! তা তো সেই অবস্থায় যখন তিনি তাঁর সত্তাগত নূরে আলোকিত হবেন। আর মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর প্রভুকে দুইবার দেখেছেন।
যঈফ, যিলালুল জুন্নাহ্ (১৯০/৪৩৭)আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান গারীব।
জামে তিরমিযী হাদিস ৩২৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর একটি নির্দিষ্ট বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর রবকে দেখেছেন এবং দুইবার দেখেছেন। প্রশ্নকারী সূরা আনআমের “চোখের দৃষ্টি তাঁকে পরিবেষ্টন করতে পারে না” আয়াত উল্লেখ করলে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, সেটি সেই অবস্থার কথা যখন আল্লাহ তাঁর নিজ নূরে প্রকাশিত হন। এই বর্ণনার বিষয়টি সূক্ষ্ম এবং একই ব্যাচের অন্য বর্ণনায় আয়িশা (রাঃ)-এর ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। তাই এখানে বাড়তি সিদ্ধান্ত না দিয়ে, এই হাদিসটি যে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর বক্তব্য তুলে ধরে—সেটিই পরিষ্কারভাবে বলা নিরাপদ। “নবী কি আল্লাহকে দেখেছেন”, “ইবনু আব্বাসের মত” এবং “সূরা আনআম ১০৩” এই হাদিসের প্রধান অনুসন্ধান শব্দ। ফলে এই বর্ণনা উদ্ধৃত করার সময় বক্তার নাম ও বক্তব্যের সীমা স্পষ্ট রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- এই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর রবকে দুইবার দেখার কথা বলেছেন।
- প্রশ্নের উত্তরে তিনি সূরা আনআম ১০৩-এর একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
- বিষয়টি নিয়ে অন্য সাহাবীর ভিন্ন ব্যাখ্যাও বর্ণিত হয়েছে।
- সূক্ষ্ম আকিদাগত বিষয়ে বর্ণনার ভাষার বাইরে অতিরিক্ত দাবি করা উচিত নয়।
