৪৪/৫৪. অধ্যায়ঃ
সূরা আন-নাজম
মিরাজের তিন উপহার: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, শেষ আয়াত ও ক্ষমা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৭৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৭৬
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ، عَنْ طَلْحَةَ بْنِ مُصَرِّفٍ، عَنْ مُرَّةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا بَلَغَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِدْرَةَ الْمُنْتَهَى قَالَ " انْتَهَى إِلَيْهَا مَا يَعْرُجُ مِنَ الأَرْضِ وَمَا يَنْزِلُ مِنْ فَوْقَ . قَالَ فَأَعْطَاهُ اللَّهُ عِنْدَهَا ثَلاَثًا لَمْ يُعْطِهِنَّ نَبِيًّا كَانَ قَبْلَهُ فُرِضَتْ عَلَيْهِ الصَّلاَةُ خَمْسًا وَأُعْطِيَ خَوَاتِمَ سُورَةِ الْبَقَرَةِ وَغُفِرَ لأُمَّتِهِ الْمُقْحِمَاتُ مَا لَمْ يُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا " . قَالَ ابْنُ مَسْعُودٍ : ( إذْ يَغْشَى السِّدْرَةَ مَا يَغْشَى ) قَالَ السِّدْرَةُ فِي السَّمَاءِ السَّادِسَةِ . قَالَ سُفْيَانُ فَرَاشٌ مِنْ ذَهَبٍ وَأَشَارَ سُفْيَانُ بِيَدِهِ فَأَرْعَدَهَا وَقَالَ غَيْرُ مَالِكِ بْنِ مِغْوَلٍ إِلَيْهَا يَنْتَهِي عِلْمُ الْخَلْقِ لاَ عِلْمَ لَهُمْ بِمَا فَوْقَ ذَلِكَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আব্দুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মিরাজের রাতে) যখন সিদরাতুল মুন্তাহায় পৌঁছালেন। আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, সিদরাতুল মুন্তাহা হল একটি কেন্দ্র যেই পর্যন্ত পৃথিবীর যা কিছু উপরে চলে যায় এবং যেখান হতে নিচের দিকে কোনো কিছু অবতরণ হয়ে আসে।এখানে আল্লাহ তা’আলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে এমন তিনটি জিনিস উপহার দেন যা তিনি ইতোপূর্বে কোনো নবীকেই দেননি।(১) পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ তাঁর উপর ফরজ করা হয়,(২) সূরা আল-বাকারার শেষের কয়েকটি আয়াত তাঁকে দেয়া হয় এবং(৩) তাঁর উম্মতের কবীরা গুনাহসমূহ (তওবার মাধ্যমে) ক্ষমা করা হয়, যদি তারা আল্লাহ তা’আলার সঙ্গে কোনো কিছু শরীক না করে থাকে।তারপর এ আয়াতটি ইবনু মাসউদ (রাঃ) পাঠ করেন (অনুবাদ): “যখন কুলগাছটি যা দ্বারা আচ্ছাদিত হওয়ার তা দ্বারা আচ্ছাদিত ছিল”-(সূরা নাজম ১৬)। ৬ষ্ঠ আকাশে সিদরাতুল মুন্তাহা অবস্থিত।সুফইয়ান (রহঃ) বলেন, এটি সোনার পাখিসমূহ দ্বারা আচ্ছাদিত, এই বলে তিনি তার হাতের ইশারায় তাদের উড়ন্ত অবস্থা বুঝালেন। মালিক ইবনু মিগওয়াল ছাড়া অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ বলেন, সিদরাতুল মুন্তাহা পর্যন্ত পৌঁছালে সৃষ্টির জ্ঞান শেষ হয়ে যায়, এর ঊর্ধ্বজগৎ সম্পর্কে সৃষ্টির কোনো জ্ঞান নেই।
সহিহ মুসলিম (হাঃ ১/১০৯)আবূ ঈসা বলেন, এটি হাসান সহীহ হাদীস।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মিরাজের রাতে সিদরাতুল মুন্তাহায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে দেওয়া তিনটি বিশেষ উপহারের কথা এসেছে। প্রথমত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়। দ্বিতীয়ত, সূরা আল-বাকারার শেষের আয়াতগুলো দেওয়া হয়। তৃতীয়ত, তাঁর উম্মতের যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করবে না, তাদের বড় গুনাহ তওবার মাধ্যমে ক্ষমার সুসংবাদ দেওয়া হয়। বর্ণনায় সিদরাতুল মুন্তাহাকে এমন সীমা বলা হয়েছে, যেখানে পৃথিবী থেকে উপরে ওঠা বিষয় পৌঁছে এবং উপর থেকে নেমে আসা বিষয় আসে। আরও বলা হয়েছে, এটি ষষ্ঠ আকাশে এবং সৃষ্টির জ্ঞান সেখানে গিয়ে শেষ হয়। “মিরাজের উপহার”, “পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ” ও “সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত” এই হাদিসের মূল অনুসন্ধান শব্দ। এই তিন উপহার নামাজ, কুরআনের আয়াত এবং ক্ষমার আশাকে একই বর্ণনায় একত্র করেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিরাজের রাতে ফরজ করা হয়েছে।
- সূরা আল-বাকারার শেষের আয়াতগুলো বিশেষ উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
- শিরক থেকে মুক্ত উম্মতের জন্য তওবার মাধ্যমে বড় গুনাহ ক্ষমার সুসংবাদ এসেছে।
- সিদরাতুল মুন্তাহা সৃষ্টির জ্ঞানের একটি শেষ সীমা হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
